পরনে তাদের যশোর নাগরিক সংঘ লেখা ‘ভেস্ট’। হাতে রয়েছে লাঠি ও হুইসেল। চালকদের কেউ ‘ট্রাফিক রুল’ ভঙ্গ করলে হুইসেল বাজিয়ে নিয়ম মানতে বাধ্য করছেন। সড়কের মাঝে দাড়িয়ে ইজিবাইক ও রিক্সাসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকদের একলাইনে চলতে বলছেন। শিশু-বৃদ্ধ ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারে সহযোগিতা করছেন। যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোয় এসব তৎপরতার মাধ্যমে যানজট নিরসনের যুদ্ধে নেমেছেন সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা।
যশোর নাগরিক সংঘ সূত্র জানায়, ঈদ ঘিরে কেনাকাটা শহরে মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। ফলে যানবাহনের চাপে শহরের সড়কগুলোয় যানজট বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছায় কাজ করছেন সংগঠনটির সদস্যরা।
সরজেমিন শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীদের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। দড়াটানা মোড়, চৌরাস্তা ও গরীবশাহ্ মাজার সংলগ্ন এলাকায় সকাল থেকেই স্বেচ্ছাসেবীরা সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন চলাচলে সহায়তা করছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারে তাদের তৎপরতা সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে।
যশোর নাগরিক সংঘের সদস্য সালমান হাসান রাজিব জানান, চালকদের যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং না করতে এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। বৃদ্ধ, শিশু এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাস্তা পার করে দিচ্ছে। রিকশা ও ইজিবাইকগুলোকে নির্দিষ্ট লেনে চলাচলে বাধ্য করা হচ্ছে।
স্বেচ্ছাসেবীদের এই কাজে সাধারণ পথচারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দড়াটানা মোড়ে হুমায়ূন কবীর নামে এক পথচারী বলেন, স্বেচ্ছাসেবীদের উপস্থিতির কারণে মোড়গুলোতে আগের মতো জটলা হচ্ছে না। তাদের এই নিঃস্বার্থ পরিশ্রম আমাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তির।
যশোর নাগরিক সংঘের সমন্বয়ক আলী আজম টিটো বলেন, শহর আমাদের সবার। তাই এর শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। যানজট নিরসনে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। শহরবাসী সচেতন হলে এই সমস্যা চিরতরে সমাধান সম্ভব। শহরের যানজট পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


























