যশোরের কেশবপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী (৭৫) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুতে কেশবপুরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধের এই সংগঠক ও সমাজসেবকের আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ।
রবিবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে কেশবপুর পৌরসভার মাইকেল মোড় এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মদ আলী উপজেলার পাত্রপাড়া গ্রামের মৃত মকছেদ আলী মোড়লের ছেলে এবং কেশবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আলী নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে কেশবপুর সদরের দিকে আসছিলেন। পথে মাইকেল মোড় এলাকায় পৌঁছালে সাতক্ষীরা থেকে ছেড়ে আসা ভোলা-জ-১১-০০০৮ নম্বরের একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় পথচারীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। পরে তাকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পুত্র ও চালুয়াহাটি ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন তার পিতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক বাসটি আটক করে। তবে বাসের চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কেশবপুর থানার এসআই সঞ্জয় জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী নিহত হয়েছেন। ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করেছেন। পাশাপাশি তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্ব, সততা ও দেশপ্রেমের জন্য তিনি এলাকাবাসীর কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এই সাহসী সন্তানকে হারিয়ে কেশবপুরবাসী আজ শোকাহত। তার কর্মময় জীবন, দেশপ্রেম এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা স্থানীয় জনগণের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


























