বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২৬

১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু নির্মাণের উদ্যোগ

রানার প্র‌তি‌বেদক

প্রকাশিত: ২২:৩১, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু নির্মাণের উদ্যোগ

ছবি : বাসস

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম চার লেনের ‘ক্যাবল-স্টেইড’ সেতু। উঁচু পাইলন বা স্তম্ভ থেকে টানা ইস্পাতের তারের সাহায্যে সেতুর মূল কাঠামো ধরে রাখা হবে। দেখতে অনেকটা বীণার তারের মতো এই আধুনিক সেতু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

রাঙামাটির কাপ্তাই ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সংযোগস্থলে কর্ণফুলী নদীর চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরিঘাট এলাকায় সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ৫৩২ মিটার দীর্ঘ সেতুটি চালু হলে চন্দ্রঘোনা ফেরির ওপর নির্ভরশীল রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলার মানুষের প্রায় চার দশকের ভোগান্তি কমবে।

সওজ সূত্র জানায়, রাঙামাটির সঙ্গে রাজস্থলী ও বান্দরবান জেলার যোগাযোগ সহজ করতে ১৯৮৯ সালে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে কর্ণফুলী নদীতে রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনায় ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। ফেরি চালুর ৩৭ বছর পরও কেবল একটি ফেরির মাধ্যমেই দুই পাড়ের শত শত যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এই ফেরি ব্যবস্থাই এখন সবচেয়ে বড় ভোগান্তির নাম। পন্টুনের সমস্যা, ডুবোচর কিংবা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের।

সওজ রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বাসস’কে বলেন, স্টিল ও কংক্রিটের সমন্বয়ে নির্মিতব্য সেতুটির মূল অংশের দৈর্ঘ্য হবে ৫৩২ মিটার। এর সঙ্গে থাকবে ৪৫৫ মিটার ভায়াডাক্ট এবং ১ হাজার ২৫০ মিটারের বেশি দীর্ঘ এলিভেটেড সড়ক। চার লেনের এই সেতুতে যুক্ত করা হবে আধুনিক ‘ব্রিজ স্মার্ট হেলথ মনিটরিং সিস্টেম’। এর মাধ্যমে সেতুর অবস্থা ও স্থায়িত্ব নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ ছাড়া থাকবে স্বয়ংক্রিয় টোল প্লাজা।

তিনি বলেন, ক্যাবল-স্টেইড সেতুতে সেতুর সড়কপথের ভার মূল টাওয়ার বা পিলারের সঙ্গে যুক্ত তির্যক তারের মাধ্যমে বহন করা হয়। শক্তিশালী স্টিলের তারের সাহায্যে সেতুর ডেক বা চলাচলের পথ টাওয়ারের সঙ্গে যুক্ত থাকে। টাওয়ার, তার ও ডেক একসঙ্গে সেতুর ভার বহন করে। ফলে নদীর মাঝখানে পিলার নির্মাণের প্রয়োজন হয় না। বড় পরিসরের স্প্যান তৈরি করা যায়। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌযান চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয় না।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: