রিজার্ভের ওপর চাপে বাড়ছে ডলারের দাম
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় নতুন করে চাপে পড়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার। লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভ খরচ করতে হওয়ায় ডলারের দর বেড়ে এখন ১২৪.৩৪ টাকায় পৌঁছেছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম তিন মাসে রপ্তানি আয় ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১.৮৫ বিলিয়ন ডলারে। বিপরীতে এ সময়ে আমদানি ব্যয় ১৫ শতাংশ বেড়ে ১৯.৩৩ বিলিয়ন ডলারে ঠেকায় বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭.৪৮ বিলিয়ন ডলারে।
আমদানি বৃদ্ধির বড় কারণ জ্বালানি কেনাকাটা। প্রথম তিন মাসে এ খাতে ৪.২২ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ।
এ বিষয়ে বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ‘আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি পরিবহনের শিপিং খরচ ও বিমা ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। যেহেতু আমরা জ্বালানি কিছুটা বেশি আমদানি করছি এবং একই সঙ্গে জ্বালানির দামও বেশি, তাই এ খাতে আমাদের ব্যয় বেড়েছে।’
বাণিজ্য ঘাটতি সামাল দিতে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রবাসীদের পাঠানো ৮.৫৯ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্সও যথেষ্ট হয়নি। নতুন ঋণ ও বিদেশি সহায়তার নিট প্রবাহ কমে যাওয়ায় সার্বিক বৈদেশিক লেনদেনে ১.১৬ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়, যা রিজার্ভ দিয়ে পূরণ করা হয়েছে।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ড. মাহফুজ কবীর আরও বলেন, ‘মাঝখানে আমরা দেখেছিলাম, ডলারের বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হচ্ছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, খোলা বাজারে প্রতি ডলার ১২৮ থেকে ১২৯ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। এর অর্থ হলো, বাজারে ডলারের সরবরাহ কম। আমাদের রপ্তানি আয় মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে রেমিট্যান্স প্রবাহের ক্ষেত্রে কিছুটা ভাটা দেখা যাচ্ছে। এর আগে আমরা রেমিট্যান্স প্রবাহে বারবার রেকর্ড হতে দেখেছি। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং সেখানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো শেষ না হওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা কমে গেছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, সেপ্টেম্বর মাস শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১.১৯ বিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে অন্তত পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যেত। তবে ৫ নভেম্বর নাগাদ সেই মজুত নেমে এসেছে ২৯.৯৮ বিলিয়ন ডলারে।


























