শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার ইঙ্গিত

রানার প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ১২:৩২, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার ইঙ্গিত

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চাল, ডিমসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দর বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তবে পণ্য পরিবহন ব্যয় প্রতি কেজিতে পয়সার হিসাবে বাড়লেও খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে টাকার অঙ্কে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগে দেড় মাস ধরে ক্রেতাকে ভোগাচ্ছিল আটা-ময়দা। গত সপ্তাহে আরেক দফায় কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে পণ্য দুটির দাম।

ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। এর মধ্যে একের পর এক নিত্যপণ্যের দর বাড়তে থাকায় কম আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সমন্বয় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নতুন করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে গরিব মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। এ থেকে উত্তরণে বাজারে সরকারের কড়া নজরদারি প্রয়োজন।

আটা-ময়দা কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে:
খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। সপ্তাহখানেক আগেও প্যাকেটজাত আটা ও ময়দার দাম ছিল যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ টাকা। সেই হিসাবে আটা-ময়দা কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।

তবে খোলা আটা ও ময়দার দর কিছুটা কম। পণ্য দুটি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি যথাক্রমে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে। পাঁচ-ছয় দিনের ব্যবধানে খোলা আটা ও ময়দার দামও বেড়েছে পাঁচ টাকা করে। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এক-দেড় মাস আগে আটা-ময়দার দাম বেড়েছিল। এখন আরেক দফা বাড়ল। নতুন করে দুই কেজির যে প্যাকেটজাত আটা ও ময়দা দিয়েছে কোম্পানিগুলো, সেগুলোর খুচরা মূল্য লেখা রয়েছে ১৪০ এবং ১৬০ টাকা। এসব পণ্য বিক্রি করে সামান্য লাভ হয়।

সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, এক মাসে প্যাকেটজাত আটার দাম ৪ ও ময়দার দাম ১৭ শতাংশ বেড়েছে।

চালের দাম বাড়ার ইঙ্গিত:
আটা-ময়দার এমন উচ্চমূল্যের মধ্যেই নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে চালের বাজারে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ট্রাক ভাড়া বাড়ার ফলে মাসখানেক ধরে স্থির থাকা চালের বাজারেও নড়চড় শুরু হয়েছে। দাম বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংস্থাটির সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান গণমাম্যমকে জানান, সরকারের নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে ভোক্তার ওপর বাড়তি বোঝা চাপাচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে কেজিতে পরিবহন খরচ হয়তো ১৫ থেকে ২৫ পয়সা বাড়তে পারে। কিন্তু এই কারণে ব্যবসায়ীরা বাড়তি সুযোগ নেবে।

জ্বালানি তেলের দাম ধাপে ধাপে বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, তেলের দাম বাড়ানো হলো। এর নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন থেকে শুরু করে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে পড়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে একে ব্যবহার করে ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়াতে না পারে, সে জন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে সরকারকে।

প্রভাব পড়তে পারে চিড়া-মুড়িতে:
কারওয়ান বাজারে পাইকারি দরে চিড়া-মুড়ি-খই ও গুড় বিক্রেতা আব্দুল্লাহ হোসেন বলেন, সম্প্রতি তিন হাজার ২০০ কেজি হাতে ভাজা মুড়ি এনেছেন। অনেক দর-কষাকষির পর গতকাল তিন হাজার টাকা বেশি ভাড়া দিয়ে মুড়ি আনতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মুড়ি মানভেদে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে কেজিপ্রতি প্রায় এক টাকা বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে। ফলে পাইকারি দরে বিক্রি করার সময় এই টাকা যোগ করেই তাঁকে বিক্রি করতে হবে।

তিনি বলেন, খুচরা বাজারে এই এক টাকা হয়তো দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। শুধু চাল আর মুড়ি নয়, ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের পরিবহন ভাড়া বাড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে এবং এর চূড়ান্ত চাপ পড়ছে ভোক্তার ঘাড়ে।

ভোজ্যতেল
চলতি মাসের শুরুতে বোতলজাত ভোজ্যতেলের দর লিটারে পাঁচ টাকা বেড়েছিল। এর পরও বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা পাঁচ লিটারের বোতলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

ডিমের হালি ৫৫ টাকা:
দুই মাস ধরে ডিমের বাজারও চড়া। এখন দাম আরও চড়েছে।

প্যাকেটজাত তরল দুধ ও ফলের দাম বেড়েছে:
সম্প্রতি সব কোম্পানির প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে। দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে আমদানি করা সব ধরনের ফলও। প্রতি কেজি মালটা ও কমলা ৪২০ থেকে ৪৫০ এবং আপেল ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল আঙুরের জন্য কেজিতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ার পেছনে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করছেন।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: