বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুধ চা আর বাহারি পানে জম্পেশ আড্ডা

প্রতিনিধি, বাগেরহাট

প্রকাশিত: ১৪:০৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুধ চা আর বাহারি পানে জম্পেশ আড্ডা

কেটলিতে ফুটছে গরম চা। টেবিলে সাজানো বাহারি রঙের পান। আর এই চা ও পানের স্বাদ নিতে অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা। এ দৃশ্য বাগেরহাট খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার সংলগ্ন অন্তত ৩০টি দোকানের। বিকেল গড়াতেই ভিড় জমতে শুরু করে দোকানগুলোয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে বেচাকেনাও। চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

একটি চায়ের দোকানের মালিক মোহাম্মদ তুহিন (৩৫) বলেন, খানজাহান আলীর (রহ.) মাজারে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ঘুরতে আসেন। এখানকার দুধ চা আর পান স্থানীয় ও দর্শনার্থীদের কাছে খুব জনপ্রিয়। প্রতিদিন এখানে দুধ চা ও পান খেতে হাজার হাজার লোক আসে। আমি প্রতিদিন অন্তত ৬০০ কাপ দুধ চা ও ২০০ থেকে ৩০০ কাপ রং চা বিক্রি করি। এখানে রং চায়ের চেয়ে দুধ চা বেশি বিক্রি হয়। এ ছাড়া ৫০০ থেকে ৬০০টি পান বিক্রি করি।

ঢাকার কর আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ঈদ ও পূজার ছুটিতে বাগেরহাট এলে আমরা বন্ধুরা এখানে চায়ের আড্ডা দিই। এ আড্ডা ছাড়া আমাদের ঈদ-পূজা জমে না। এখানকার দুধ চা আমার খুব প্রিয়। দোকানদাররা পরম যত্নে দুধ চা বানিয়ে দেয়।

শহর থেকে একটু দূরে ডেমা এলাকার তাফসিদ ইসলাম বলেন, আমি প্রায়ই এখানে দুধ চা খেতে আসি। মাজারের এই চায়ের স্বাদ অতুলনীয়। বাইরের জেলার কোনো অতিথি এলে তাদের আপ্যায়ন করতে এখানে নিয়ে আসি। আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী চা-পান খাওয়াই।

পানপ্রেমী হোসেন শেখ বলেন, মাজারে আসলে এখানকার পান আমার খেতেই হবে। এখানকার পানের স্বাদ অন্যান্য জায়গার চেয়ে আলাদা। দোকানদাররা রংবেরঙের বিভিন্ন মসলা দিয়ে খুব সুন্দর করে পান বানিয়ে দেয়। অনেক সময় শুধুমাত্র পান খেতেই গ্রাম থেকে মাজারে আসি।

আসাদ শেখ নামের আরেক দোকানি বলেন, আমাদের এখানে প্রচুর দুধ চা আর স্পেশাল এই পান বিক্রি হয়। স্থানীয় লোকজনের চেয়ে বাইরের কাস্টমার বেশি আসে। শুধুমাত্র চা-পান খেতে আর আড্ডা দিতে অনেক দূর থেকে মানুষ আসে। এটা আমাদের মতো দোকানদারদের জন্য সৌভাগ্য। আমরাও আমাদের সাধ্যমতো সেরা দুধ চা আর হরেক রকম মসলা দিয়ে পান বানিয়ে খাওয়াই।

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার এবং ষাট গম্বুজ মসজিদ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকেরা আসেন। এই পর্যটনকে কেন্দ্র করে মাজারে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনোদনের জায়গা গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে এখানকার পান ও দুধ চা প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিনোদনের জায়গা হিসেবে এখানে পরিবার ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দেন, দুধ চা খান, পান খান। আমরা তাদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখভাল করি। স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকেরা ভালো নিরাপত্তা, মনোরম পরিবেশ পেয়ে এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে পরিবার ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডা দিতে পারেন।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ: