শুক্রবার ০৬ মার্চ ২০২৬

২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে ছাত্রলীগ নেতা ছেলেকে ত্যাজ্য’র ব্যাপারে কিছুই জানেন না দাবি পিতার

রানার প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ

প্রকাশিত: ১৩:৩৩, ৫ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১৪:১৩, ৫ মার্চ ২০২৬

ঝিনাইদহে ছাত্রলীগ নেতা ছেলেকে ত্যাজ্য’র  ব্যাপারে কিছুই জানেন না দাবি পিতার

রাজনীতি কখনও কখনও রক্তের সম্পর্ককেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। মতাদর্শের ভিন্নতা কি সত্যিই ছিন্ন করতে পারে বাবা-ছেলের বন্ধন? ঝিনাইদহের আড়ুয়াকান্দি গ্রামে এখন এমনই এক ঘটনা নিয়ে চলছে চর্চা। যেখানে ছেলে ছাত্রলীগ করায় তাকে ত্যাজ্য করেছেন পিতা। আর এ ঘটনাটি এখন টক অব দ্য টাউন। তবে পিতার দাবি, এসবের কিছুই তিনি জানেন না। 
ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান সবুজ। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হলেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় চালু করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। যার কারণে এই নেতাকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন তার পিতা। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আড়ুয়াকান্দি গ্রামে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে। 
ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ ওই গ্রামের আবু জাফরের ছেলে ও সরকারী কেশব চন্দ্র কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক। অন্যদিকে আবু জাফর সদর উপজেলা কৃষকদলের সিনিয়র সদস্য সচিব। এদিকে ত্যাজ্য করার ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছে নাহিদের পরিবারের সদস্যরা। 
বাড়িতে গিয়ে ঘরে তালা ঝোলানো অবস্থায় দেখা যায়। তবে মুঠোফোনে সন্তানকে ত্যাজ্য করার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন পিতা আবু জাফর। এদিকে তাজ্য করার ঘোষণার ব্যাপারে নোটারি পাবলিক সংশ্লিষ্ট দুই আইনজীবী বলছেন- ত্যাজ্য করার সময় নাহিদের বাবা আবু জাফর ছিলেন কি না তা তাদের মনে নেই। 
নোটারি পাবলিককের মাধ্যমে করা অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করা হয়, নাহিদ তার বাবার কথা শোনেন না। বাড়িতেও থাকেন না। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতি করাসহ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তার কোনো কর্মকাণ্ডের দায় পরিবার নেবে না। নোাটরি পাবলিকের নথিতে আরও লেখা রয়েছে- আবু জাফর সুস্থ শরীর ও সুস্থ মস্তিষ্কে; কারো প্ররোচনা ছাড়া নিজ নাম সই করেছেন।
বিষয়টি জানতে সদর উপজেলার আড়ুয়াকান্দি গ্রামে নাহিদ হাসান সবুজের বাড়িতে গিয়ে কাউকেই পাওয়া যায়নি। তাদের ঘরটি ছিল তালাবদ্ধ। প্রতিবেশীরাও কিছু জানাতে পারেননি। মোবাইল ফোনে নাহিদের পিতা সদর উপজেলা কৃষকদলের সিনিয়র সদস্য সচিব আবু জাফরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। এদিকে, ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান সবুজের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ত্যাজ্য করার কাজে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সাদাতুর রহমান হাদী বলছেন, নোটারি করার সময় আবু জাফর সেখানে উপস্থিত ছিলেন কি না মনে করতে পারছেন না। অপর আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বলছেন ,নোটারি শনাক্ত করার সময় সেখানে একটা লোক ছিল। তবে সে নাহিদের পিতা আবু জাফর কিনা তা জানেন না তিনি।
ফলে সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে-আসলেই কি বাবা ছিন্ন করেছেন সম্পর্ক,নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো চাপ বা সমীকরণ। রাজনীতির বিভাজন কি এবার ছুঁয়ে গেল পারিবারিক বন্ধনও-আড়ুয়াকান্দি গ্রামের এই নীরব বাড়ি যেন রেখে যাচ্ছে সেই প্রশ্নই।


পাবলিককের মাধ্যমে করা অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করা হয়, নাহিদ তার বাবার কথা শোনেন না। বাড়িতেও থাকেন না। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতি করাসহ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তার কোনো কর্মকাণ্ডের দায় পরিবার নেবে না বলেও তাতে উল্লেখ রয়েছে। নথিতে আরও লেখা রয়েছে আবু জাফর সুস্থ শরীর ও সুস্থ মস্তিষ্কে,কারও প্ররোচনা ছাড়া নিজ নাম সই করেছেন।
বিষয়টি জানতে সদর উপজেলার আড়ুয়াকান্দি গ্রামে নাহিদ হাসান সবুজের বাড়িতে গিয়ে কাউকেই পাওয়া যায়নি। তাদের ঘরটি ছিল তালাবদ্ধ। প্রতিবেশীরাও কিছু জানাতে পারেনি। তবে  নাহিদের বাবা ঝিনাইদহ  সদর উপজেলা কৃষকদলের  সিনিয়র সদস্য সচিব আবু জাফরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।


এদিকে ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান সবুজের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।


নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ত্যাজ্য করার কাজে সংশ্লিষ্ট ঝিনাইদহ জজ কোর্টের আইনজীবী সাদাতুর রহমান হাদী বলছেন, নোটারি করার সময় আবু জাফর সেখানে উপস্থিত ছিলেন কিনা মনে করতে পারছেন না।

অপর আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বলছেন,নোটারি শনাক্ত করার সময় সেখানে একটা লোক ছিল। তবে সে নাহিদের পিতা আবু জাফর কিনা তা জানেন না তিনি।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে-আসলেই কি বাবা ছিন্ন করেছেন সম্পর্ক,নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো চাপ বা সমীকরণ। রাজনীতির বিভাজন কি এবার ছুঁয়ে গেল পারিবারিক বন্ধনও-আড়ুয়াকান্দি গ্রামের এই নীরব বাড়ি যেন রেখে যাচ্ছে সেই প্রশ্নই।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ: