শুক্রবার ০৬ মার্চ ২০২৬

২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরের কানাই বাবুর বাড়ি ও মন্দির বিলুপ্তির পথে এক পঞ্চরত্ন স্থাপত্য 

সাজেদ রহমান

প্রকাশিত: ১৮:৪১, ৫ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১৮:৪২, ৫ মার্চ ২০২৬

যশোরের কানাই বাবুর বাড়ি ও মন্দির বিলুপ্তির পথে এক পঞ্চরত্ন স্থাপত্য 

যশোর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বগচর মৌজায় অবস্থিত ‘কানাই বাবুর বাড়ি ও মন্দির’ স্থানীয়ভাবে এক পরিচিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। পাকা রাস্তা থেকে মুরলী মনিহার সড়ক ধরে প্রায় ৫০ মিটার উত্তরে গেলেই চোখে পড়ে এই প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ। সময়ের নির্মম সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্থাপনাটি আজ জরাজীর্ণ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও, এর স্থাপত্যশৈলী এখনো অতীতের গৌরবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
এটি একটি পঞ্চরত্ন মন্দির, যা বর্গাকার পরিকল্পনায় নির্মিত। মন্দিরটির চারপাশে চারটি অনুগম্বুজ এবং মাঝখানে একটি প্রধান রত্ন বা চূড়া ছিল, যা এর স্থাপত্যরীতিকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। বর্গাকার মন্দিরটির প্রস্থ ৫.২০ মিটার এবং ভূমি থেকে কার্নিশ পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত এ ভবনে ব্যবহৃত ইটের পরিমাপ ২৬দ্ধ১২দ্ধ৭.৫ সেন্টিমিটার ও ২৫দ্ধ১২দ্ধ৭.৫ সেন্টিমিটার, যা প্রাচীন নির্মাণশৈলীর পরিচায়ক।


মন্দিরের পূর্ব পাশে দুটি দরজা রয়েছে, যেগুলো বর্তমানে বন্ধ অবস্থায় আছে। একসময় এ দরজা দিয়েই পূজারি ও দর্শনার্থীরা মন্দিরে প্রবেশ করতেন। মন্দিরের উত্তর পাশে একটি আবাসিক বাড়ি ছিল, যা বর্তমানে ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে বাড়ির চারপাশের বাউন্ডারির ওপর নতুন করে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে, যা অতীতের স্থাপনার চিহ্ন বহন করছে।
বর্তমানে মন্দিরটি সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত ও অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর গায়ে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য লতাপাতা ও বটগাছ, যা একদিকে প্রকৃতির আগ্রাসনের চিত্র তুলে ধরে, অন্যদিকে স্থাপনাটির ভঙ্গুর অবস্থাকে আরও বিপন্ন করে তুলেছে। সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে এ ঐতিহাসিক স্থাপনাটি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, এখন এটি সংস্কার করা সম্ভব নয় বলেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


কানাই বাবুর মন্দিরটি যশোরের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যরীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। একসময় ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত এই মন্দির আজ নিঃশব্দে অতীতের স্মৃতি বহন করছে। যথাযথ সংরক্ষণ উদ্যোগের অভাবে এমন বহু ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হারিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ: