রোববার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবাব ফয়জুন্নেছার মৃত্যুবার্ষিকী: কুমিল্লায় প্রস্তুতিমূলক সভা

নারীশিক্ষা ও সমাজসেবার অগ্রদূতের কর্মময় জীবন স্মরণে নানা আয়োজন

প্রতিনিধি, কুমিল্লা

প্রকাশিত: ১৫:৫৭, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারীশিক্ষা ও সমাজসেবার অগ্রদূতের কর্মময় জীবন স্মরণে নানা আয়োজন

কুমিল্লার ঐতিহাসিক নারী জাগরণ, শিক্ষা ও সমাজসেবার অগ্রদূত নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণীর মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। সভায় সভাপতিত্ব করবেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মিজ্ রোজী আকতার।

জেলা প্রশাসন, কুমিল্লার আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এ সভায় নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা হবে।

নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী (১৮৩৪–১৯০৩) কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগাঁওয়ের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আহমদ আলী চৌধুরী ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও জমিদারির জমিদার। রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থার মধ্যেও তিনি বাংলা, আরবি, ফারসি, উর্দু ও সংস্কৃত ভাষায় জ্ঞান অর্জন করেন।

নারীশিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান ছিল অসামান্য। ১৮৭৩ সালে কুমিল্লায় মেয়েদের জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পরবর্তীতে পশ্চিমগাঁওয়ে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। নারী ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্র ও ফয়জুন্নেছা জেনানা হাসপাতাল। পাশাপাশি মসজিদ, রাস্তাঘাট, পুকুর-দিঘি ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজেও তিনি অর্থ ব্যয় করেন।

১৮৮৯ সালে সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করে। এ কারণে তিনি ইতিহাসে উপমহাদেশের প্রথম নারী নবাব হিসেবে বিশেষভাবে স্মরণীয়।

তিনি শুধু সমাজসেবকই ছিলেন না, ছিলেন একজন সাহিত্যিক ও কবিও। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম ‘রূপজালাল’, যেখানে তৎকালীন সমাজ ও নারীর জীবনসংগ্রামের চিত্র উঠে এসেছে। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে।

১৮৯৪ সালে হজ পালনের সময় মক্কাতেও তিনি মাদ্রাসা ও মুসাফিরখানা প্রতিষ্ঠা করেন। মৃত্যুর আগে তাঁর জমিদারির একটি বড় অংশ ওয়াকফ করে যান, যার মাধ্যমে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা হতো।

১৯০৩ সালে নিজ গ্রাম পশ্চিমগাঁওয়ে তাঁর মৃত্যু হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর জীবন আজও নারীশিক্ষা, মানবসেবা, জনকল্যাণ ও সামাজিক অগ্রগতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: