মহাসড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে স্থাপন করা এআই ক্যামেরার সুফল পেতে শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ক্যামেরার মাধ্যমে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হওয়ায় চালকদের মধ্যে বাড়ছে সচেতনতা। এতে ধীরে ধীরে কমছে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের প্রবণতা, দুর্ঘটনা এবং মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনাও।
মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংসহ বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্ত করা হচ্ছে। আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
ক্যামেরা স্থাপনের পর প্রথম দিকে আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মামলা বেড়ে যায়। ক্যামেরার নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় একের পর এক যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে চালকদের মধ্যে তৈরি হয় এক ধরনের সতর্কতা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুরুতে মামলা ও জরিমানার সংখ্যা বাড়লেও এখন এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। অনেক চালকই আগে থেকে সতর্ক হয়ে নির্ধারিত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করা থেকে বিরত থাকছেন। ফলে মহাসড়কে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়ছে।
একজন চালক বলেন, “আগে অনেকেই হয়তো নিয়ম মেনে গাড়ি চালাতেন না। এখন মহাসড়কে এআই ক্যামেরার নজরদারি থাকায় চালকদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। এর ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমছে।”
এদিকে শুধু যানবাহন নিয়ন্ত্রণ নয়, মহাসড়কে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ায় অপরাধীদের তৎপরতাও কমছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এআই ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহন ও চলাচলের ওপর নজরদারি থাকায় অপরাধীদের জন্য আগের মতো সুযোগ থাকছে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা গেলে মহাসড়কে যান চলাচলে আরও শৃঙ্খলা ফিরবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা ও অপরাধ কমিয়ে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তাদের প্রত্যাশা, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এআই ক্যামেরার আওতা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ অব্যাহত রাখা হলে সড়ক নিরাপত্তায় এর সুফল আরও দৃশ্যমান হবে।


























