শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ফাহিম ইসলাম

প্রকাশিত: ১৫:৪৩, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনায় চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানাধীন ইসলামনগর মসজিদ গলি এলাকায় চুরির অপবাদে আজমল ওরফে আযম (২৩) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আজমল চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের কুতুবের ছেলে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীত গলিতে আকিবের বাড়ির পঞ্চম তলার একটি মেসে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তিনি নর্দান/নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে কয়েকজন যুবক আজমলকে চুরির অভিযোগে আটক করে মারধর করেন। এ সময় তাকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাত দেড়টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজমলকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা দাবি করেন, চুরির অভিযোগে আটক হওয়ার পর তিনি একটি ভবনের চারতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন। তবে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এছাড়া মাথার চুল কেটে দেওয়ার চিহ্নও ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর পর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা দ্রুত হাসপাতাল থেকে চলে যান।

এ ঘটনায় আজমলকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রকৃত মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, গভীর রাতে কয়েকজন যুবক আজমলকে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করেন। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি তদন্তে পুলিশের একটি টিম কাজ করছে। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং চুরির অভিযোগের সত্যতা কী—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

শেয়ার করুনঃ