শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুক্তির আগেই গিনেস রেকর্ডে আল্লু অর্জুন-দীপিকার ‘রাকা’

রানার ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪৯, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুক্তির আগেই গিনেস রেকর্ডে আল্লু অর্জুন-দীপিকার ‘রাকা’

সিনেমা মুক্তির আগেই ইতিহাস গড়েছে আল্লু অর্জুন ও দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘রাকা’। তবে এটি কোনো বক্স অফিস রেকর্ড নয়। সিনেমাটির নির্মাণে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক মোশন-ক্যাপচার প্রযুক্তির মাধ্যমে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছে ছবিটি। একই সময়ে ৩৭ জন পারফর্মারের গতিবিধি রিয়েল-টাইমে ধারণ করে এই রেকর্ড তৈরি করা হয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও রেকর্ডটির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

পরিচালক অ্যাটলির ‘রাকা’কে ঘিরে দর্শকের আগ্রহের অন্যতম কারণ এর বিশাল পরিসর ও প্রযুক্তিনির্ভর নির্মাণ। আল্লু অর্জুনের সঙ্গে প্রথমবার জুটি বেঁধেছেন অ্যাটলি। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন। ছবিটি প্রযোজনা করছে সান পিকচার্স। ২০২৭ সালে ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।

‘রাকা’র গিনেস রেকর্ডের মূল চমক ৩৭ জন পারফর্মার। একটি মাত্র সেশনে তাদের প্রত্যেকের শারীরিক নড়াচড়া একই সময়ে রিয়েল-টাইমে ধারণ করা হয়। গিনেসের রেকর্ড অনুযায়ী, ‘গড়ংঃ চবড়ঢ়ষব গড়ঃরড়হ-ঈধঢ়ঃঁৎবফ রহ জবধষ-ঞরসব’ বিভাগে ৩৭ জনকে একসঙ্গে ধারণ করাই নতুন রেকর্ড। এ রেকর্ডের সঙ্গে সান টিভি নেটওয়ার্ক লিমিটেড এবং পরিচালক ভি. অরুণকুমার—পেশাগতভাবে যিনি অ্যাটলি নামে পরিচিত—এর নাম রয়েছে। রেকর্ডটি মুম্বাইয়ে অর্জিত হয়।

মোশন-ক্যাপচার হলো এমন একটি প্রযুক্তি, যেখানে একজন মানুষের শারীরিক নড়াচড়া বিশেষ সেন্সর ও ক্যামেরার মাধ্যমে ডিজিটাল ডেটায় রূপান্তর করা হয়। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে কম্পিউটার-নির্মিত চরিত্রের গতিবিধি তৈরি করা যায়। অর্থাৎ পর্দায় যে ডিজিটাল চরিত্রকে দেখা যায়, তার হাঁটা, দৌড়ানো, লাফানো কিংবা লড়াইয়ের মতো নড়াচড়া অনেক সময় বাস্তব পারফর্মারের শরীরের গতিবিধি থেকে তৈরি হয়।

‘রাকা’র ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল ছিল। একজন বা দুজন নয়, একই সময়ে ৩৭ জনের পৃথক পৃথক গতিবিধি নির্ভুলভাবে ধারণ করতে হয়েছে। রেকর্ড তৈরির এই সেশনে অংশ নেওয়া পারফর্মারদের বয়স ছিল ৪ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।

এই বিশাল আয়োজনের জন্য ব্যবহার করা হয় ৯২টি অপটিক্যাল মোশন-ক্যাপচার ক্যামেরা। এর সঙ্গে ছিল ক্যালিব্রেশন, নেটওয়ার্কিং, সিঙ্ক্রোনাইজেশন, রিয়েল-টাইম ভিজ্যুয়ালাইজেশন, ফেসিয়াল ক্যাপচার এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা। এতগুলো পারফর্মারের নড়াচড়া একই সঙ্গে আলাদা করে শনাক্ত ও সংরক্ষণ করাই ছিল বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।

ছবিটির প্রযুক্তিগত দল এ কাজের জন্য আলাদা মোশন-ক্যাপচার পাইপলাইন ও ওয়ার্কফ্লো তৈরি করে। ফলে একই ক্যাপচার ভলিউমের মধ্যে ৩৭ জনের পারফরম্যান্স একসঙ্গে ধারণ করা সম্ভব হয়। প্রযুক্তিবিদদের মতে, প্রত্যেক পারফর্মারের গতিবিধি যেন অন্যজনের সঙ্গে মিশে না যায় এবং প্রতিটি পারফরম্যান্স আলাদাভাবে সঠিকভাবে রেকর্ড হয়—এটাই ছিল এই কাজের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

মজার বিষয় হলো, রেকর্ড তৈরির কাজটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই সম্পন্ন হয়েছিল। পরে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ স্বীকৃতি দেয়। ২১ সেপ্টেম্বর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সান পিকচার্স আল্লু অর্জুন ও অ্যাটলির হাতে গিনেসের সনদ তুলে নেওয়ার ছবি প্রকাশ করে।

রেকর্ডের খবর প্রকাশের পর আল্লু অর্জুন এটিকে পুরো দলের জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পরিচালক অ্যাটলিও জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের কথা শুনে বড় হলেও একদিন নিজের সিনেমার মাধ্যমে এমন স্বীকৃতি পাওয়ার কথা তিনি ভাবেননি।

‘রাকা’কে ঘিরে আগ্রহ শুধু আল্লু অর্জুন ও দীপিকা পাড়ুকোনের জুটির কারণে নয়। ছবিটির পরিচালক অ্যাটলি এর আগে বড় বাজেটের ভিজ্যুয়ালনির্ভর সিনেমার জন্য পরিচিতি পেয়েছেন। ‘রাকা’য়ও বড় পরিসরের ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, মোশন-ক্যাপচার ও প্রযুক্তিনির্ভর নির্মাণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ছবিটির বিস্তারিত কাহিনি এখনো নির্মাতারা পুরোপুরি প্রকাশ করেননি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এটিকে সায়েন্স-ফিকশন ও অ্যাকশনধর্মী প্যান-ইন্ডিয়া প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

তাই পর্দায় আসার আগেই ‘রাকা’র প্রথম বড় অর্জনটি বক্স অফিসে নয়, বরং সিনেমা তৈরির প্রযুক্তিতে। ৩৭ জন পারফর্মারকে একই সময়ে রিয়েল-টাইমে মোশন-ক্যাপচার করার গিনেস রেকর্ড ছবিটির নির্মাণপ্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এখন দর্শকের অপেক্ষা—এই প্রযুক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা শেষ পর্যন্ত বড় পর্দার সিনেমাটিক অভিজ্ঞতায় কতটা রূপ নেয়।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: