মাচায় মাচায় লতিয়ে উঠেছে সিমগাছ। কোথাও ফুল, কোথাও ঝুলছে কচি সিম। ভোরের আলো ফুটতেই ব্যস্ত হয়ে ওঠেন কৃষক। কেউ গাছের পরিচর্যা করছেন, কেউবা পাকা সিম তুলে বাজারে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগাম ফলন ও ভালো দামের প্রত্যাশায় যশোরের চৌগাছা উপজেলার চুটারহুদার মাঠে এবার সিম চাষে আগ্রহ বেড়েছে।
চুটারহুদার একই মাঠে সিম চাষ করেছেন রফিকুল ইসলাম, মুসা মণ্ডল, নজু, সাজেদুল, শুকুর আলীসহ কয়েকজন কৃষক। একজনের সফলতা দেখে পাশের জমির কৃষকরাও আগাম সিম চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
চুটারহুদার মাঠে ১০ কাঠা জমিতে সিম চাষ করেছেন কৃষক রফিকুল ইসলাম। এরই মধ্যে তাঁর খেক্ষের সিম বাজারে উঠতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতে ভালো দামে সিম বিক্রি করতে পেরে স্বস্তিতে রয়েছেন তিনি।
রফিকুল ইসলাম জানান, জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, মাচা তৈরি, শ্রমিক ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আগাম ফলন হওয়ায় ইতোমধ্যে সিম বিক্রি শুরু করেছেন এবং ভালো দামও পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এবার গাছ খুব ভালো হয়েছে। সিমও আগে ধরেছে। ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু করেছি এবং ভালো দাম পেয়েছি। আগাম সিম হওয়ায় সামনে আরও ভালো দাম পাব বলে আশা করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনও ভালো হবে।’
রফিকুল ইসলামের পাশের জমিতে সিম চাষ করেছেন মুসা মণ্ডল। একই মাঠের অন্য জমিতে আবাদ করেছেন নজু ও সাজেদুল। শুকুর আলীসহ আরও কয়েকজন কৃষকও সিম চাষ করেছেন।
কৃষকদের আবাদে পুরো মাঠজুড়ে তৈরি হয়েছে সবুজের আবহ। মাচায় ঝুলে থাকা সিম দেখে বোঝা যায়, মৌসুমের শুরুতেই বাজার ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সিমের বাজারে চাহিদা থাকায় আগাম ফলন তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে আবহাওয়া, রোগবালাই ও বাজারদরের ওঠানামা তাঁদের জন্য বড় ঝুঁকি। ফলে আগাম ফলনের পাশাপাশি বাজারদরের দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় সিম চাষের আলাদা কোনো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে চলতি মৌসুমে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বর্তমানে ১১০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে।
ইউনিয়নভিত্তিক হিসাবে ফুলসারা ইউনিয়নে ২৩ হেক্টর, সিংহঝুলি ইউনিয়নে ১৫, পাতিবিলা ইউনিয়নে ১৭, নারায়ণপুরে ৪২ এবং সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নে ১৪ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এ ছাড়া স্বরূপদাহ ইউনিয়নেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে সবজি চাষ হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চৌগাছায় সবজি চাষ অনেক কৃষকের জন্য বাজারমুখী উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।
সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজি উৎপাদন ও সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে আগাম সবজি চাষ করে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন চৌগাছার কৃষকরা।
কৃষকদের ধারণা, অন্যান্য এলাকায় সবজির সরবরাহ কম থাকলে আগাম উৎপাদিত সিমসহ বিভিন্ন সবজি তুলনামূলক ভালো দামে বিক্রি হতে পারে। এতে উৎপাদন খরচ পুষিয়ে লাভের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে আগাম সবজি চাষে ঝুঁকিও রয়েছে। অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, রোগবালাই ও বাজারদরের ওঠানামা কৃষকের হিসাব বদলে দিতে পারে। এ কারণে সময়মতো কৃষি পরামর্শ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষকদের মতে, আগাম সবজি চাষে বীজ, সার, কীটনাশক, মাচা তৈরি ও শ্রমিকের পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। অনেক কৃষকের পক্ষে একসঙ্গে এসব ব্যয় বহন করা কঠিন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রণোদনা বা উপকরণ সহায়তা পাওয়া গেলে আরও কৃষক আগাম সবজি চাষে আগ্রহী হবেন।


























