যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাক্ষাৎকার নেন রয়টার্সের প্রতিবেদক জ্যাকব বোগেজ। ৫ অক্টোবর ২০২৬ছবি: রয়টার্স
রয়টার্সকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ওয়াশিংটনের দাবি পূরণে এবং দুই দেশের মধ্যকার সাত মাসের যুদ্ধ অবসানে ইরানকে তাদের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ‘অর্থপূর্ণভাবে’ কমিয়ে আনতে হবে। তবে আলোচনায় ইরান কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের অনিশ্চয়তা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সংশয়ী ভ্যান্স। তবে ইরান সংঘাতের মীমাংসা করতে চলমান আলোচনায় তিনি প্রধান ভূমিকা নিয়েছেন। গত জুনে তাঁর মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক শান্তিচুক্তি হলেও তা দ্রুতই ভেঙে পড়ে।
ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার যেমন ধাক্কা খেয়েছে, তেমনি আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিকভাবে একটি বড় ঝুঁকিও তৈরি করেছে।
আলাস্কায় নির্বাচনী প্রচার সফর শেষে গত সোমবার কথা বলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে ইরানকে তাদের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা কমাতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে পরমাণু সক্ষমতা কমিয়ে আনার নিছক আশ্বাসে কোনো কাজ হবে না।
সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘আপনারা যদি পারমাণবিক অস্ত্র না–ই চান, তবে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ জ্বালানির কী প্রয়োজন? আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি যদি দিতেই হয়, তবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ করুন। এটি একেবারেই প্রাথমিক একটি শর্ত।’
ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর প্রতিশ্রুতি দেখাতে চায়, তবে তাদের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতার ক্ষেত্রে অর্থপূর্ণ কিছু করে দেখানো উচিত বলে মনে করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
যুদ্ধ বন্ধ করা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে গত কয়েক সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে তেহরানের সবশেষ প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। একই সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান আরও জোরদার হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র এখনো চুক্তির পক্ষে খোলা মন রাখলেও এর আগে ইরানের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট পারমাণবিক ছাড়ের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন ভ্যান্স। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের কথায়, ‘আমরা শুধু কথার ওপর ভিত্তি করে কোনো সমঝোতা করব না; বাস্তবে পদক্ষেপ নিতে হবে।’


























