মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর ২০২৬

২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে বিমান হামলায় নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের পরিচয় জানা গেছে

রানার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:৩৩, ১২ অক্টোবর ২০২৬

সৌদিতে বিমান হামলায় নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের পরিচয় জানা গেছে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় দুজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ বাংলাদেশি। এই হতাহতদের পরিচয় জানা গেছে। পররাষ্ট্র এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুজন হলে মো. শাহেদ আহম্মদ ও মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। শাহেদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মো. রফিকুল ইসলাম ও মায়ের নাম শাহেরা বেগম। তিনি সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। দেশটিতে তাঁর কাজের অনুমতিপত্র (ইকামা) ছিল। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে দেশে থেকে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি।

আর নাসরুল্লাহর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মোহাম্মদ উল্লাহ ও মায়ের নাম জাহানারা বেগম। তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে যাওয়া ব্যক্তি। তাঁদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

এই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক।

হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। তাঁরা বাবার নাম ইসহাক ও মায়ের নাম কমলা বেগম। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। ট্রানজিটে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।

কাজী নুরুল্লাহর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামে। তাঁর বাবার নাম কাজী জয়নাল মিয়া ও মায়ের নাম শিউলি বেগম। তিনিও ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। ট্রানজিটে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।

মো. ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। তিনি রিয়াদ থেকে জেদ্দায় কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে ছিলেন। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

এই চিকিৎসাধীন দুজন হলেন সাফফাত রহমান ও মো. দাউদুল ইসলাম। এঁদের মধ্যে সাফফাত অচেতন অবস্থায় আছেন। সাফফাতের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মো. মোখলেসার রহমান ও মায়ের নাম রোকেয়া বেগম। দাউদুলের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মো. মহিব উল্লাহ ও মায়ের নাম রোকেয়া বেগম। তাঁরা দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। ট্রানজিটে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা।

রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে দুজন বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁরা হলেন—মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। সাইদুলের বাড়ি ঢাকার লালবাগের আমলিগোলা এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মো. আবদুল হাই ও মায়ের নাম রহিমা বেগম। আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীনের বাড়ি ঢাকার মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মো. আবুল ফজল ও মায়ের নাম তাজকেরা বেগম।

তাঁরা দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। ট্রানজিটে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা।

প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতাল এখানে চিকিৎসাধীন আছেন একজন বাংলাদেশি। তাঁর নাম নাম মো. আবদুল্লাহ। তাঁর বাড়ি ঢাকার ডেমরা এলাকার পূর্ব বক্সনগরে। তাঁর বাবার নাম মো. মোখতার আহমেদ ও মায়ের নাম ফজিলাতুন নেসা। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতাল, তাখাসসুসি শাখা

এই হাসপাতালে তিন বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁরা হলেন—হলেন আরমান হোসেন, মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হক।

আরমানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ইব্রাহিমনগর এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মো. মজিবুল হক ও মায়ের নাম শামসুন নাহার। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

মোহাম্মদ ও ফয়সাল সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। দেশটিতে তাঁদের কাজের অনুমতিপত্র (ইকামা) ছিল।

কিংডম হাসপাতাল এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন একজন বাংলাদেশি। তাঁর নাম মো. রফিক মিয়া। তিনি সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। দেশটিতে তাঁর কাজের অনুমতিপত্র (ইকামা) ছিল।

কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটি এখানে চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন—ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা ও মো. রায়হানুল ইসলাম। তাঁদের মধ্যে ইসমাইল ও রায়হানুল সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। মিসবাহ উদ্দীন হীরার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতাল

এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশি হলেন—সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার।

তাঁরা সবাই সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। দেশটিতে তাঁদের কাজের অনুমতিপত্র (ইকামা) ছিল।

এস্টার সনদ হাসপাতাল

এখানে চিকিৎসাধীন দুজন হলেন মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল। আসাদুল সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি।

মো. জামালের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

সুলাইমান ফকিহ হাসপাতাল

এই হাসপাতালে একজন বাংলাদেশির চিকিৎসাধীন থাকার তথ্য রয়েছে। তিনি হলেন নাজমা আক্তার। তবে তাঁর বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতাল, আলসাহাফা শাখা

এখানে উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল নামে দুজন বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন আছেন। ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং তাঁদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে দূতাবাসের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকে পড়েন

হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া যাত্রী, ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ব্যক্তি এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা ছিলেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সহায়তায় আটকে পড়া যাত্রীদের আবাসন, খাবার ও বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করেছে।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ৩ নম্বর টার্মিনালে থাকা প্রায় ১০০ যাত্রীকে মেরিয়ট ও রেডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকার ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

এ ছাড়া ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরামের পোশাক পরে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের দুই বাংলাদেশি কর্মীকে আল খোবারের স্থলসীমান্ত দিয়ে বাহরাইন যেতে সহায়তা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরামের পোশাক পরে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের দুই বাংলাদেশি কর্মীকে আল খোবারের স্থলসীমান্ত দিয়ে বাহরাইন যেতে সহায়তা করা হয়েছে।

 

 

 

 

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: