মাসে মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয় করেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। পাঁচ বছরে ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত দাম ৯৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অর্থাৎ ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দাম বেড়েছে ৯৬৫ টাকা বা প্রায় ৯৯ শতাংশ। পরে কয়েক দফা কমে সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
কিন্তু বাজারে এই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে নির্ধারিত দামের চেয়ে গ্রাহককে দিতে হচ্ছে সর্বোচ্চ প্রায় ৯১৫ টাকা বেশি।
২০২১ সালের ১২ এপ্রিল বেসরকারি পর্যায়ের এলপিজির দাম প্রথমবার নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এরপর বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দফায় দফায় দাম বাড়ানো-কমানো হয়েছে।
২০২৬ সালের এপ্রিলে এক মাসেই দুই দফায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম মোট ৫৯৯ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর জুনে ৫৫ টাকা ও জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়। আগস্টে আবার ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা এবং সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
সরকারি দাম বনাম বাজার
বিইআরসি নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারদরের বড় ব্যবধানই এখন ভোক্তাদের প্রধান ভোগান্তির কারণ। ব্যবসায়ীদের একাংশ বাজারে সরবরাহ সংকটের কথা বললেও ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা দেশে কোনো সংকট নেই বলে জানান।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। বৈঠকে আমদানিকারক ও অপারেটররা সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি ভালো বলে জানান।
এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকদের এলপিজির কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন জ্বালানি মন্ত্রী। পরদিন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশও (লোয়াব) দেশে সরবরাহ পর্যাপ্ত বলে জানায় এবং নির্ধারিত দামের বেশি দামে বিক্রি বা অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘যে হারে দাম বাড়ানো হচ্ছে, তাতে ভোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে তা সামাল দেওয়া খুব কঠিন হবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, বিইআরসির নির্ধারিত দামে কোথাও বাজারে এলপিজি বিক্রি হয় না। ফলে ভোক্তাদের আরও বেশি দামে কিনতে হয়।’


























