শনিবার ০৩ অক্টোবর ২০২৬

১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আট মাসের নিম্নমুখী ধারা ভেঙে এপ্রিলে বড় উত্থানের পর টানা দুই মাস প্রবৃদ্ধি। প্রথম প্রান্তিকে আয় বেড়েছে ৬.৩৪ শতাংশ।

​​​​​​​ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২১:১৩, ২ অক্টোবর ২০২৬

আট মাসের নিম্নমুখী ধারা ভেঙে এপ্রিলে বড় উত্থানের পর টানা দুই মাস প্রবৃদ্ধি। প্রথম প্রান্তিকে আয় বেড়েছে ৬.৩৪ শতাংশ।

টানা আট মাসের পতনের পর বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিচ্ছে। দীর্ঘ সময়ের নিম্নমুখী প্রবণতা ভেঙে চলতি বছরের এপ্রিলে রপ্তানি আয় এক লাফে ৩২ শতাংশের বেশি বাড়ে। মে মাসে আবার পতন হলেও জুনে বড় উত্থান এবং জুলাইয়ের সামান্য পতনের পর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে টানা দুই মাস বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও রপ্তানি আয় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বাংলাদেশ ৩৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই মাসে রপ্তানি আয় ছিল ৩৬২ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এক বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে প্রায় ৩১ কোটি ডলার। তবে মাসভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরের রপ্তানি আগস্টের ৪৪২ কোটি ডলারের তুলনায় ১১ দশমিক ১১ শতাংশ কম।

আট মাসের টানা পতন

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত টানা আট মাস বছরওয়ারি রপ্তানি আয় কমেছে। এর মধ্যে ডিসেম্বর মাসে পতন ছিল ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মার্চে ১৮ দশমিক ০৭ শতাংশ—যা ওই ধারার সবচেয়ে বড় পতন।

এরপর এপ্রিল মাসে হঠাৎ বড় পরিবর্তন আসে। আট মাসের পতন শেষে ওই মাসে রপ্তানি আয় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৪০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে মে মাসে আবার ৭ দশমিক ০৭ শতাংশ কমে যায়। জুনে প্রায় ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। জুলাইয়ে বছরওয়ারি হিসাবে সামান্য ০ দশমিক ৯ শতাংশ পতন হলেও আগস্টে প্রবৃদ্ধি হয় ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

পোশাকই এখনো মূল ভরসা

রপ্তানি আয় ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা তৈরি পোশাক খাতের। সেপ্টেম্বরে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০৮ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা গত বছরের একই মাসের ২৮৩ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৯৯৭ কোটি ৪২ লাখ ডলার। অর্থাৎ তিন মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

তৈরি পোশাকের মধ্যে নিটওয়্যার রপ্তানি প্রথম প্রান্তিকে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক ৫ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়েছে। ফলে সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির বড় অংশই এসেছে পোশাক খাত থেকে।

পোশাকের বাইরেও প্রবৃদ্ধি

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের রপ্তানি চিত্রে কয়েকটি অপ্রচলিত খাতও ইতিবাচক অবদান রেখেছে। মাসটিতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি ২০ দশমিক ১৯ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্য ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং হোম টেক্সটাইল ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়েছে। হালকা প্রকৌশল পণ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধি এসেছে ওষুধ খাতে—সেপ্টেম্বরে এ খাতের রপ্তানি বেড়েছে ৬৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

প্রথম প্রান্তিকেও পোশাকের বাইরে কয়েকটি খাত ভালো করেছে। পাটে ৩১ দশমিক ৫৫ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্যে ১৬ দশমিক ৫১ শতাংশ, রাসায়নিক পণ্যে ২৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ওষুধে ৪০ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং চামড়ায় ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিপরীতে কৃষিপণ্য এবং হিমায়িত ও জীবন্ত মাছের রপ্তানি কমেছে।

প্রথম প্রান্তিকে ১৩.০৯ বিলিয়ন ডলার

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ফলে তিন মাসে আয় বেড়েছে ৭৮ কোটি ডলনের বেশি বা ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

প্রবৃদ্ধি ফিরলেও আছে প্রশ্ন

রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি ফিরলেও উৎপাদন সক্ষমতা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা এবং প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক সময়ে শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব নিয়েও রপ্তানিকারকদের উদ্বেগ রয়েছে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় বাজারেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চাপের তথ্য এসেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ইউরোয় ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছিল। ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোর প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বড় বাজারগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি অবস্থান কতটা স্থায়ীভাবে শক্তিশালী হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: