দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। সেপ্টেম্বর ছিল চলতি বছরের সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস। মাসটিতে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু এবং ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অক্টোবরের প্রথম দিনেও আরও একজনের মৃত্যু ও ১ হাজার ১৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৫০ জন, আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮২ হাজার ৭৬১।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, নতুন মারা যাওয়া ব্যক্তি ঢাকা বিভাগের। নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪২০, চট্টগ্রামে ৩৩৩, বরিশালে ১৫১, খুলনায় ১১১, ময়মনসিংহে ৭৭ এবং রংপুরে ৭১ জন রয়েছেন। একই সময়ে ১ হাজার ১৬৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ মৃত্যু
চলতি বছরের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকলেও বর্ষা মৌসুমের সঙ্গে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে থাকে। জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়। সেপ্টেম্বরে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮ জনে। অর্থাৎ আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে মৃত্যু বেড়েছে তিন গুণের বেশি।
সেপ্টেম্বরে শুধু মৃত্যুই নয়, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও ব্যাপক বেড়েছে। এক মাসে ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়।
পরিস্থিতি আরও খারাপের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অক্টোবরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত ও পরিবর্তিত আবহাওয়া এডিস মশার প্রজনন এবং ভাইরাসের সংক্রমণ দীর্ঘায়িত করতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেছেন, তাঁর পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির পর জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। শুধু ফগিং করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; বাড়িঘর, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, পরিত্যক্ত পাত্রসহ সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
হাসপাতালে বাড়ছে চাপ
২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ হাজার ৬৫০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৭৬ হাজার ৮৬১ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
এদিকে ডেঙ্গু শনাক্তকরণে বাংলাদেশকে ৫ লাখ ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট দেওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে এসব কিট হস্তান্তর করা হয়েছে।
খুলনাতেও বাড়ছে চাপ
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে নতুন করে ১১১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগে ১ অক্টোবরের ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে নতুন ভর্তি ছিলেন ২৫৬ জন। ফলে খুলনা অঞ্চলেও সংক্রমণের ওপর নজরদারি ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।


























