রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিষ্ঠাতা বাঙালি যোগসাধক, দার্শনিক ও ধর্মগুরু শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের ১৯১তম জন্মতিথি বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমায় অবস্থিত কামারপুকুর গ্রামে বঙ্গাব্দ ১২৪১ সালের ফাল্গুন মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে (খ্রিস্টাব্দ ১৮৩৬) এক দরিদ্র ধর্মনিষ্ঠ রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে রামকৃষ্ণ পরমহংসের জন্ম হয়। পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় এবং মা চন্দ্রমণি দেবীর চতুর্থ ও শেষ সন্তান তিনি।
শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের ১৯১তম জন্মতিথি উপলক্ষ্যে যশোরে তিন দিনব্যাপী উৎসব চলছে। যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনের আয়োজনে বুধবার তিন দিনব্যাপী বার্ষিক এ উৎসব শুরু হয়। মঙ্গলারতি, বৈদিক স্তোত্র পাঠ ও সমবেত প্রার্থনার মাধ্যমে ভোর পাঁচটা থেকে সূচনা হয় উৎসবের দ্বিতীয় দিন। এরপর এদিন সকাল আটটায় শুরু হয় শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের বিশেষ পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি প্রদান। শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জন্মতিথি ও বার্ষিক এ উৎসবে শ্রদ্ধায় সমর্পিত হয়ে মানবকল্যাণের জয়যাত্রা সমুন্নত রাখতে উৎসবে শামিল হন অগণিত ভক্ত।
এদিন দুপুরে আশ্রমের মাঠে নির্মিত সু-সজ্জিত অস্থায়ী উৎসব মঞ্চে অনুষ্ঠিত ‘শ্রীরামকৃষ্ণের জীবন ও আদর্শ’ শীর্ষক আলোচনা সভা হয়। আলোচনা সভা থেকে বক্তারা শ্রীরামকৃষ্ণের জীবনের বিভিন্ন দিক, যেমন তাঁর শৈশব, তাঁর সাধনা, তাঁর শিক্ষা এবং তাঁর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করে সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মানবসেবা ও মানবিক উন্নয়নের আহ্বান জানান।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার। সভাপতিত্ব করেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সরকারি ব্রজলাল কলেজের দর্শন বিভাগের প্রফেসর প্রেমানন্দ মণ্ডল, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর বাবলু হীরা মণ্ডল। আলোচক ছিলেন কৃষি ব্যাংক যশোরের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার বিজন বিশ্বাস। স্বাগত বক্তব্য দেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনের সহ-সম্পাদক স্বামী আত্মবিভানন্দ।
সঞ্চালনা করেন যশোর নওয়াপাড়া মডেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ রাহা।
এতে বক্তারা বলেন, ‘শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মতিথিতে, আমরা তাঁর আদর্শকে স্মরণ করি। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে, সকল ধর্মই সত্য এবং সকল পথই একই গন্তব্যের দিকে নিয়ে যায়। তাঁর শিক্ষা আমাদের জীবনে প্রেম, শান্তি এবং মুক্তির পথ দেখায়।’
বক্তারা বলেন- ‘শ্রীরামকৃষ্ণের আদর্শ এবং শিক্ষা মানবতার শিক্ষা দেয়। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে, সত্যিকারের ধর্ম হলো জীবে প্রেম, শান্তি এবং সেবা। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে, সকল মানুষই এক এবং সকল ধর্মই একই সত্যের প্রকাশ।’ বৈশ্বিক মানবিকতার কর্মযজ্ঞে নিবেদিত থাকতে সকলকে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জীবনাদর্শ মেনে চলার আহ্বান জানান বক্তারা।
আলোচনার পর রামায়ণ গান পরিবেশন করেন মণিরামপুরের পালাকার উজ্জ্বল হালদার ও তার দল। সন্ধ্যায় শ্রীমদ্ভাগবত আলোচনা করেন স্বামী আত্মবিভানন্দ মহারাজ। শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া দুপুরে বিতরণ হয় অন্ন প্রসাদ।
উৎসবের তৃতীয় দিন শুক্রবার ভোর ৫টায় আশ্রমের মূল মন্দিরে হবে মঙ্গলারতি, বৈদিক স্তোত্র পাঠ ও সমবেত প্রার্থনা, সকাল আটটায় হবে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের বিশেষ পূজা ও ভজন সংগীত, বিকেল ৫টায় ‘শ্রীমা সারদাদেবীর জীবন ও আদর্শ’ শীর্ষক আলোচনা, আলোচনার আগে সকালে হবে ভজন সংগীত, দুপুরে রামায়ণ গান, অন্ন প্রসাদ বিতরণ, সন্ধ্যায় সংশপ্তক শিল্পী সংগঠন মণিরামপুর যশোরের শিল্পীদের পরিবেশনায় হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।


























