ভবদহ অঞ্চলের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগেই টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বা জোয়ারাধার চালু এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খাল পুনঃখনন ও প্রশস্ত করার জোর দাবি জানিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। একই সাথে আগামী ৫ অক্টোবর ‘ভবদহ দিবস’ উপলক্ষ্যে অভয়নগর উপজেলা চত্বর থেকে আমডাঙ্গা খাল পর্যন্ত পদযাত্রা ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
বুধবার ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নীলরতন ধর রোডস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি ও কর্মসূচি জানান কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক গাজী আবদুল হামিদ। সংগঠনটির অন্যতম নেতা শেখর বিশ্বাস সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর নওয়াপাড়ায় পানিবন্দি মানুষের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে তৎকালীন সরকারের পুলিশি হামলার শিকার হয়েছিলেন স্থানীয়রা। রক্তাক্ত সেই দিনটিকে স্মরণ করে প্রতিবছর ভবদহবাসী ৫ অক্টোবরকে ‘ভবদহ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, চলতি বছরের জুলাই মাসের ভারী বৃষ্টিতে অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর, ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। দীর্ঘ তিন মাস ধরে লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন। ফসলি জমি, বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় পানির নিচে তলিয়ে থাকায় এলাকায় খাদ্যসংকটসহ তীব্র বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
বক্তারা আরও জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ কিলোমিটার নদী সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। তবে নদী কাটার পাশাপাশি টিআরএম কার্যকর না করা হলে এ টাকা অপচয় হবে এবং নদী দ্রুত পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাবে। ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)-এর প্রস্তাবনা অনুযায়ী নদী বাঁচাতে এবং জোয়ারের অতিরিক্ত পলি ঠেকাতে আগামী চার মাসের মধ্যে (মাঘী পূর্ণিমার পূর্বে) টিআরএম চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের কাজ জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় আটকে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
সমস্যা সমাধানে ও জনদুর্ভোগ কমাতে সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে ১০ দফা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— মাঘী পূর্ণিমার আগেই কার্যকর টিআরএম বা জোয়ারাধার চালু করা, আমডাঙ্গা খালের বিস্তৃত পুনঃখনন ও প্রশস্তকরণ দ্রুত সম্পন্ন করা, সকল নদী ও খাল থেকে কচুরিপানা, নেট-পাটা এবং কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ করা, ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবরের হামলায় জড়িতদের বিচার করা, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের লক্ষ্যে পাঁচ কড়ি-রাজবংশীপাড়া, টেকার বেইলি ব্রিজ, কপালিয়া ব্রিজ ও মূল টেকা ব্রিজের নিচের বাঁধ এবং ভবদহ ২১ গেট ও ৯ গেটের বাঁধা অপসারণসহ টেকা ব্রিজ থেকে অবশিষ্ট ৪ কিমি নদী ভাসমান এস্কেভেটর দিয়ে খনন করা। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতি দ্রুত এলাকা পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে অবিলম্বে জনদাবি মেনে নেওয়ার জোর তাগিদ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমান, সংগ্রাম কমিটির সদস্য শিবপদ বিশ্বাস, সুকেন্দু বিশ্বাস, রাজু আহম্মেদ, বাসন্তী মণ্ডল, সঞ্জয় বৈরাগী, ভগীরথ হালদার, আনন্দ বাবু, আব্দুর রওফ বিশ্বাস, মিরান তরফদার, আলমগীর হোসেন, আনিচুর রহমান ও সতীশ মল্লিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


























