দিনাজপুর-৬ সংসদীয় আসন (ঘোড়াঘাট, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর) নির্বাচনী যত ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী মাঠ সরগরম। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদিনই দফায় দফায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, মিটিং, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে মুখর হয়ে উঠছে চার উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে, হাটব-াজারে ও পৌর এলাকা। প্রার্থীদের সরব উপস্থিতিতে ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দিনাজপুর-৬ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বাস্তব দেখা যাচ্ছে নির্বাচনী মাঠে জমে উঠছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের ধানের শীষ, অপর দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরা সদস্য ও সাবেক জেলা আমির মোঃ আনোয়ারুল ইসলামের দাঁড়িপাল্লা- এই দুই প্রতীককে ঘিরেই কেন্দ্রীভূত হয়েছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। উন্নয়ন বঞ্চনার অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর; বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দিনাজপুর-৬ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ডা. এ জেড এম মো. জাহিদ হোসেন নির্বাচনী প্রচারণায় অভিযোগ করে বলেন, চার উপজেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। জাতীয় উন্নয়নের মূল স্রোতের বাইরে রেখে এ এলাকাকে অবহেলা করা হয়েছে বলে দাবি বিএনপি প্রার্থীদের। ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “দিনাজপুর-৬ আসনের মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে অবকাঠামো উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”তিনি আরও বলেন, এই এলাকার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে সৎ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রয়োজন। ঐতিহ্য রক্ষা ও সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি জামায়াত প্রার্থীর; অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলামও মাঠে রয়েছেন বেশ শক্ত অবস্থানে। সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগে মিছিল মিটিং তিনি বলেন, দিনাজপুর-৬ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সব খাতেই অবহেলার শিকার। জনগণের ভোটে তার দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “এই এলাকায় বহু ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রয়েছে, যা দীর্ঘদিন তত্ত্বাবধানের অভাবে ধ্বংসের মুখে। এসব স্থাপনা সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য আমাদের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।” ভোটারদের উদ্দেশে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। দিনাজপুর-৬ সংসদীয় আসন অন্যান্য প্রর্থীদের মধ্যে মধ্যে রয়েছেন- জাতীয় পাটির মনোনীত প্রার্থী মো. রেজাউল হক (লাঙ্গল),ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নুর আলম সিদ্দিক (হাতপাখা), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর প্রার্থী মো. আব্দুল হাকিম (মই) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ শাহ (ঘোড়া)। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৭৯ হাজার ৬২৭ জন এবং ট্রান্সজেন্ডার ভোটার ১৩ জন। এই আসনে রয়েছে ৩টি পৌরসভা ও ২৩টি ইউনিয়ন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৯৯টি। শেষ মুহূর্তের প্রর্তীরা প্রতিদিনই ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়ন, পরিবর্তন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে আগ্রহ ও কৌতূহল। সব মিলিয়ে দিনাজপুর-৬ আসনে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উত্তেজনাকর। শেষ পর্যন্ত কার দিকে ঝুঁকে পড়ে ভোটারদের রায়- সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো দিনাজপুর-৬ সংসদীয় এলাকা।


























