বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি রাজনৈতিক দল ওঠেপড়ে লেগেছে। আপনাদের অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।’ সোমবার দুপুর আড়াইটায় যশোর উপশহর কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জনসভায় তিনি যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলার বিএনপি ২২ প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তারেক রহমান এদিন দুপুরে খুলনায় নির্বাচনি জনসভায়ও বক্তব্য দেন। পরে তিনি যশোরে আসেন।
জনসভায় তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ কথা বলেছেন। দেশের মানুষ যখন আন্দোলন শুরু করেছেন, তারা বাঁচার জন্য এখন বলছেন, তার অ্যাকাউন্ট নাকি হ্যাকড হয়েছে। প্রশাসনের লোকজন বলেছেন, তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি। ওই রাজনৈতিক দল মিথ্যা কথা বলছে।
নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার সুযোগ চালু করা হয়েছিল। যার সুফল আজও পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ ও সার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘যারা দেশের মানুষের কাছে মিথ্যা কথা বলে, তারা বিকাশ নম্বর নিচ্ছে। এটাই তাদের ক্যারেক্টার। তাদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। তাদের ভূমিকার কারণে একাত্তর সালে লাখ লাখ মা–বোন ইজ্জত হারিয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, তরুণ সমাজকে আইটি প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং বিদেশ যেতে আগ্রহীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম খতিব মুয়াজ্জিন সহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্ম গুরুদের জন্য মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়ে বিএনপি’র এই প্রধান নেতা বলেন, ১২ তারিখে ধানের শীষ বিজয়ী হলে ১৩ তারিখ থেকেই এসব কার্যক্রম শুরু করা হবে।
যশোরের অর্থনীতি নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘যশোরে একটি শিল্প আছে। সেটি হলো ফুল চাষ। গারমেন্টস জামাকাপড় যেমন এক্সপোর্ট হয়, তেমনি আমরা ফুল বিদেশে এক্সপোর্ট করতে চাই।’
এতে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক। সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হেসেন (খোকন)।
বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মেহেদী আহমেদ রুমি, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ও অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সহধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাকির হোসেন সরদার, নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমদ, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, যশোর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু প্রমুখ।
যশোরের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে বক্তব্য দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ আসনের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত)।
নির্বাচনি সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথি তারেক রহমান জুলাই যুদ্ধাহত এবং শহীদদের পিতা মাতার সাথে কুশল বিনিময় করেন।


























