যশোরের চৌগাছা উপজেলার কুঠিপাড়া মোড়ে চৌগাছা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলার এবং স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা শাহিন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ দাবিতে রোববার যশোরের চৌগাছা এলাকার বাসিন্দা মোবারক হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ভাইপো মামুন কবীর।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মামুন কবীর বলেন, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ চৌগাছা উপজেলার কুঠিপাড়া মোড়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন সাবেক কাউন্সিলার ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা শাহিন। তিনি কুঠিপাড়ার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফাহিমা আক্তার মুক্তা বাদী হয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে চৌগাছা থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মোবারক হোসেনের পরিবারের দাবি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে মামুন কবীর লিখিত বক্তব্যে বলেন, মামলায় উল্লিখিত ১১ আসামির মধ্যে তার ছয় ছেলে ও ভাইপো রয়েছেন এবং বাকি পাঁচ জন প্রতিবেশী, যারা সকলেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। প্রতিহিংসাবশত তাদের আসামি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন,‘প্রকৃত হত্যাকারীদের আড়াল করতে নিরপরাধদের জড়ানো হয়েছে। আমরা কোনো হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করি না। শাহিন হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার হোক—এটাই আমাদের দাবি। তবে নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৯৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ্যে তার বড় ভাই, সাবেক উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মকবুল হোসেনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মমিন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। নিহত শাহিন ওই মমিনের ছোট ভাই বলে দাবি করেন তিনি। পূর্বের ঘটনার জেরে প্রতিশোধমূলকভাবে তার পরিবারকে ফাঁসানো হয়েছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ঘটনাটি অধিকতর তদন্তপূর্বক প্রকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মোবারক হোসেনের পরিবারের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, মাহমুদা আক্তার তিশা, আয়েশা আক্তার ঝুমা, সালমা আক্তার ও রুপালী আক্তার প্রমুখ।


























