সোমবার ০২ মার্চ ২০২৬

১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১৭ মামলার আসামি মনিরুল গ্রেপ্তার, দায় স্বীকার

যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যার রহস্য উন্মোচন

রানার প্র‌তি‌বেদক

প্রকাশিত: ২২:০৪, ১ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২২:১১, ১ মার্চ ২০২৬

যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যার রহস্য উন্মোচন

১৭ মামলার আসামি আটক মনিরুল ইসলাম ও উদ্ধারকৃত মটরসাইকেল। ছবি: দৈনিক রানার

যশোর শহরের শংকরপুরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ মামলার আসামি মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দ পুলিশ (ডিবি)শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহরতলীর ঝুমঝুমপুরের মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়

গ্রেপ্তারকৃত মনিরুল শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়ার আব্দুল খালেকের ছেলে

রোববার সন্ধ্যায় মনিরুলকে আদালতে সোপর্দ করা হলে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা শিকার করে জবানবন্দি দিয়েছে 

যশোর সদর আমলী আদলতের বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব আহম্মেদ ইমন আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন

এরআগে, মনিরুলের স্বীকারোক্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি মোটরসাইকেলের নাম্বর প্লেটে লেখা ছিলহাদি ইজ নট নেম, হাদি মিনস বাংলাদেশঅর্থাৎহাদি শুধু নাম না, হাদি মানে বাংলাদেশ

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) অলক কুমার দে জানান, আটক মনিরুলের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্রসহ ১৭টি মামলা রয়েছে  রোববার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে

তিনি আরও জানান, চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের জামাই পরশ, সহযোগী সাগর, মূল শুটার ত্রিদিব ওরফে মিশুক, শাহীন কাজী সর্বশেষ মনিরুলকে আটক করা হয়েছে আটক পাঁচ জনের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছে

আসামিদের দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, আলমগীর হোসেনকে হত্যার মুলপরিকল্পনাকারী ছিলে নিহতের মেয়ে জামাই পরশ জামাই পরশ শ্বশুর আলমগীর হোসেনকে হত্যা করতে খরচ ধরেছিল  ১৫ লাখ টাকা ঘটনার দিন হত্যা মিশনে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের লাখ টাকা দিতে চেয়েছিল পরশ বিকেলে পরশ এক লাখ টাকা একটি পিস্তল  দিয়েছিল শুটার মিশুকে হত্যার পর বাকি লাখ টাকা জামাই পরশ শংকরপুরের প্রিন্সের কাছ থেকে ধার নিয়ে রাতে পৌঁছে দিতে চেয়েছিল তাদের বাকি ১০ লাখ টাকা সুবিধামতো সময়ে দেওয়া হবে বলে তাদের নিশ্চিত করেছিল পরশ হত্যা মিশনে তারা ১০ থেকে ১২ জন ছিল

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম মোটরসাইকেলে ছিল অমিত শুটার মিশুক পরের মোটরসাইকেলে আরও দুজন এবং তৃতীয় মোটরসাইকেলে ছিল তিনজন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আলমগীর হোসেন যখন মোটরসাইকেল চালিয়ে শংকরপুর বটতলা হয়ে ইসহাক সড়কে আসেন, সে সময় তিনটি মোটরসাইকেলে তাকে অনুসরণ করতে থাকে ইসহাক সড়কে ঢুকে আলমগীর হোসেন একটি দোকানে কিছু সময়ের জন্য দাঁড়ান তারাও দাঁড়িয়ে যায় আলমগীর থেকে যাওয়ায় এরমধ্যে একটি মোটরসাইকেল আগে চলে যায় আলমগীর হোসেন যখন সাবেক কাউন্সিলর নয়নের অফিসের কাছাকাছি পৌঁছান, সে সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে মিশুক এরপর চারজন দুটি মোটরসাইকেলে দ্রুত চলে যায় গোলপাতা মসজিদের দিকে আর শাহীন কাজীর তৃতীয় মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থল থেকে ঘুরিয়ে ফের বটতলার দিকে চলে গিয়েছিল

গত জানুয়ারি সন্ধ্যায়  যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা নিহত আলমগীর হোসেন যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার ইসহাক সড়কের ইন্তাজ চৌধুরীর ছেলে ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বাদী হয়ে জামাই পরশ, সাগরসহ অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামী করে কোতোয়ালি থানা হত্যা মামলা করেন 

পুলিশে হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযান চালিয়ে নিহতের জামাই পরশ তার সহযোগী সাগরকে আটক করে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল শুটার বেজপাড়ার ত্রিদিব ওরফে মিশুককে আটক করা পুলিশ মিশুকের স্বীকারোক্তিতে আটক করা হয় শহরের রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার  শাহীন কাজীকে তিনিও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তার দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে আসে মনিরুলের নাম সেই সূত্র ধরেই মনিরুলকে আটক করা হয় রোববার মনিরুলকে আদালতে সোপর্দ করা হলে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: