চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপির নির্বাচনি সহিংসতায় হাফিজুর রহমান (৪৫) নামে জামায়াতকর্মী হয়েছেন। এ ছাড়া উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
নির্বাচনের পরের দিন ১৩ ফেব্রুয়ারি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসানকে মারধরের ঘটনার জেরে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার হাসাদহ বাজারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত হাফিজুর রহমান জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও জীবননগর শহরে ঢাকা জুয়েলার্সের মালিক ছিলেন। এ সংঘর্ষে আহতরা হলেন, মফিজুল ইসলাম (৪২) ও মাহফুজ হোসেন (২৫), এবং হাসাদাহ ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান (৩৬) ও তার পিতা জসিম উদ্দিন (৬৫), তৌফিক (২৫)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান জামাত সমর্থকদের মারার উদ্দেশ্যে হাসুয়া নিয়ে সুটিয়া গ্রামে যায়। সুটিয়া গ্রামের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে মেহেদী হাসানকে মারধর করে সুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে আটকে রাখেন, পরে পুলিশ হাতে সোপর্দ করে, থানা পুলিশ মেহেদী হাসানকে মুচলিকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনার জের ধরে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম হাসাদহ বাজারে আসলে মেহেদী হাসান, জসিম উদ্দিন, ইমরান ও বাপ্পা মিলে তাকে কিল ঘুসি মেরে আহত করে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে এই ঘটনার আহত খায়রুল ইসলাম জামায়াত ইসলামীর দলীয় লোকজন নিয়ে ইফতারি পর মেহেদী হাসানের বাড়িতে এসে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষের সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থান নেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
হামলায় গুরুতর আহতদের প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের মধ্যে চারজনের উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। যশোর নেওয়ার পর হাফিজুর রহমানের অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হলে পরে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান। এ ঘটনার পর থেকে হাসাদাহ বাজার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকেই ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন আছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন চুয়াডাঙ্গার সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) আনোয়ারুল কবীর ও জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, ‘হাসাদাহ এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এ ঘটনায় একজন মারা গেছে। বাকি আহতরা চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, জামায়াত কর্মী নিহতের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বেলা ১১টার দিকে জামায়াতে ইসলামের জীবননগর কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাসস্ট্যান্ড ট্র্যাফিক আইল্যান্ডে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা নিহত হাফিজুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিএনপি কর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে জীবননগরে ‘আগুন জ্বলবে’ এবং ‘হত্যার বদলে হত্যা’ করা হবে। বিক্ষোভ চলাকালে কর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং প্রায় ১০ মিনিট শহরের যান চলাচল বন্ধ থাকে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান। বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা মাজলিসুল মুফাসসিরিন পরিসদের সভাপতি মাওলানা হাফিজুর রহমান, জীবননগর উপজেলা জামাতের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন।
সংঘর্ষে নিহত হাফিজুর রহমানের জানাজা রোববার ৩টার পর জীবননগরের সুটিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।


























