চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজে বালুর বদলে মাটি ব্যবহারের অভিযোগে পাওয়া গেছে। কাজের দরপত্র অনুযায়ী, মহাসড়কের দুই পাশে বালু ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু দেদারে মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
অভিযোগ মিলেছে, নিম্নমানের ও পুরোনো ইটের টুকরো দিয়ে খোয়া তৈরি করে সেগুলো এই কাজে ব্যবহার চলছে। স্থানীদের ভাষ্য, তদারকি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘হরিলুট’ চালাচ্ছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে জীবননগর-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের মিলপাড়া এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে প্রশস্তের কাজে স্তূপ করে রাখা বালুর চেয়ে মাটির পরিমাণই বেশি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বালু দিয়ে কাজ করলে বর্ষার শুরুতেই রাস্তা ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া খোয়া হিসেবে ব্যবহৃত ইটের মান ও মাপ কোনোটিই দরপত্র অনুযায়ী হচ্ছে না।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা লোকনাথপুর থেকে জীবননগর হাসপাতাল গেট পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়কের এই কাজটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। যশোরের ঠিকাদার মইনুদ্দিন বাঁশি এই কাজটি বাস্তবায়ন করছেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ার আলামিন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা কোনো অনিয়ম করছি না। সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী ও সুপারভাইজার উপস্থিত থেকেই এই বালি ও খোয়া মিশ্রণ করে পাঠিয়েছেন। তাদের অনুমতি ছাড়া কিছু হচ্ছে না।
নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের চুয়াডাঙ্গা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দেখতে মাটির মতো মনে হলেও আসলে এগুলো বালুই। এগুলো কুষ্টিয়া থেকে আনা হয়েছে। ল্যাব টেস্টের প্রমাণও আমাদের কাছে আছে। তবে খোয়ার বিষয়ে তিনি স্বীকার করেন যে, সেখানে কিছু পুরানো ইটের খোয়া থাকতে পারে।


























