ডিজেল সংকটে চলতি বোরো মৌসুমে চুয়াডাঙ্গায় সেচ কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। কাজ ফেলে সারাদিন পাম্পে ঘোরাঘুরি করে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম তেল পাচ্ছেন। আবার খালি হাতেও ফিরে যেতে দেখা যাচ্ছে অনেককে।
চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২২টি পেট্রোল পাম্প আছে। এসব পাম্পে জ্বালানি তেলের জন্য বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। কৃষকেরা সেচের জন্য বোতল বা প্লাস্টিকের পাত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছেন। তেল পেতে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। কৃষকদের কেউ কেউ ডিজেল নিতে সেচ যন্ত্র নিয়েও লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদরনউপজেলার ধান চাষি আবদার আলী বলেন, ৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩ লিটার তেল পেয়েছি। এই তেলে সব জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে না। এখন বোরো ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়।আর এক মাস পরে ধান কাটা শুরু হবে। তাছাড়া এখন তাপমাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। এই সময় ধান গাছে ঠিকমতো পানি না পেলে ফলন অনেক কমে যাবে।
মো. হারুন নামের এক ধান চাষি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বোতল হাতে করে লাইনে তেল নেওয়ার জন্য ৩ ঘণ্টা দাড়িয়ে ছিলাম। তেল নেওয়ার সময় বলছে বোতলে তেল দেওয়া যাবে না। পরে আবার মাঠ থেকে শ্যালো-ইঞ্জিন নিয়ে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি।এভাবে চলতে থাকলে ধানের জমি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে যাবে। তেমন ফলন পাওয়া যাবে না। পাম্পে ৩/৪ দিন পরপর তেল পাওয়া যাচ্ছে। এখন ধানে প্রতিদিন সেচ দিতে পারলে ভালো হয়।
নাসির উদ্দীন নামের এক চাষি বলেন,এখন তাপমাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। এই সময় মাঠের প্রতিটা ফসলে সেচ দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে বোরো ধানের সেচ নিয়মিত না দিলে ফলন অনেক কমে যাবে। পাম্পে ফুয়েল কার্ড থাকলে আগে-ভাগে তেল দিচ্ছে। কৃষকদের ডিজেল তেল পেতে কোনো নিয়মনীতি নেই। অনেক জায়গায় বোতলে তেল দিচ্ছে না। এতে করে কৃষকদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মাসুূূদুর রহমান সরকার বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলায় এবার ৩৫ হাজার ৩৪৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। আর ১ মাস পর থেকে পুরোদমে ধান কাটার কাজ শুরু হবে।এই জেলায় অধিকাংশ বোরো আবাদের জমি ডিজেল চালিত সেচ যন্ত্রের আওতায় রয়েছে। এখন এই ‘ক্রাইসিসের’ মুহূূর্তে কৃষকদের ধানে সেচ দিতে সাময়িক অসুবিধা হলেও সেটি উৎপাদনে তেমন প্রভাব ফেলবে না। তাছাড়া কৃষকেরা যেন ভোগান্তি ছাড়া ডিজেল পান সেই বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।


























