চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন মিয়া (৭৯) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। শনিবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভার ক্যান্সারে ভুগছিলেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসা চলছিল তার। তবে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এক সপ্তাহ আগে চিকিৎসকেরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর শনিবার দুপুরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মোশাররফ হোসেন মিয়া ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের জেলা পর্যায়েও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর)-এ যোগ দেন। ১৯৭৫ সালের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যুক্ত হয়ে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি চালিয়ে যান। তিনি থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে কাউন্সিলের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।
সামরিক শাসক এরশাদের আমলে তিনি গ্রেপ্তার হন। সে সময় কারাগারে থেকেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও জনসম্পৃক্ততার জন্য সর্বমহলে প্রশংসিত ছিলেন।
তার মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন স্বজনরা।


























