জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে চুয়াডাঙ্গায় ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন নারীরা। পুরুষদের ওপর চাপ কমাতে দীর্ঘ লাইনে ভীড় করতে দেখা যাচ্ছে তাদের। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বেশ কিছুদিন ধরে জ্বালানি তেল পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে বাড়তি চাপ পড়ছে পুরুষদের ওপর। কোনো কোনোদিন দিনভর ফিলিং স্টেশনে অবস্থান করতে হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে অন্যান্য কাজ। যার কারণে এবার নারী দায়িত্ব নিয়েছেন জ্বালানি তেল সংগ্রহের।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে তেল পাম্পে মহিলাদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। উপজেলার সন্তোষপুরে অঙ্গন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষদের পাশাপাশি নারীরা ডিজেল কার্ড ও তেলের বোতল হাতে অপেক্ষায় রয়েছেন। পরিবারের পুরুষ সদস্যদের ওপর থেকে তেল সংগ্রহের ধকল কমাতে লাইনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন নারীরা। শনিবার সকাল থেকেই তেল পাম্পে এই চিত্র দেখা যায়।
আকলিমা খাতুন নামের এক নারী বলেন, আমার স্বামী তেল নিতে আসলে পাম্পেই দিন পার হয়ে যায়। এতে ফসলের মাঠের অন্যান্য কাজ হয়না। যার কারণে স্বামীকে কৃষি জমিতে কাজে পাঠিয়ে আমি সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ডিজেল নিয়ে বাড়িতে ফিরবো।
আসমা খাতুন নামের আরেক নারী বলেন, কৃষি মালামাল বহনের জন্য পাওয়ার টিলার রয়েছে আমাদের। বাড়ির পুরুষ সদস্যরা তেল নিতে আসলে সেইদিন গাড়ির চাকা আর ঘোরে না। আয় রোজগার বন্ধ থাকে। স্বামী সন্তানকে কাজে পাঠিয়ে আমি নিজে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি।
সন্ধ্যা রানী নামের একজন বলেন, আমার ‘বাড়িওয়ালা’ খুবই অসুস্থ। এই রোদ গরমে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়ালে আরও অসুস্থ হয়ে যাবেন। তাই আমি নিজেই তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি।
ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল হান্নান বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ পেট্রোলের লাইনে ভিড় কিছুটা কম। তবে ডিজেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন রয়েছে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও লাইন রয়েছে। পাঁচজন পুরুষকে তেল দেওয়ার পর নারীদের লাইন থেকে একজনকে তেল দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার অন্যান্য পাম্প গুলোতেও নারীদের লাইন চোখে পড়েছে।


























