যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকায় যশোর-মাগুরা মহাসড়কের ঈগল তেল পাম্পসংলগ্ন স্থানে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাসান আলীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার প্রতিবাদে ইছালী ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা রাতেই মহাসড়ক অবরোধ করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
প্রায় আধা ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়।
হাসান আলীর অভিযোগ, তার বাবা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার প্রাক্কালে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, স্থানীয় আশিক প্রকাশ্যে রামদা নিয়ে তার ওপর হামলার চেষ্টা করেন।
তার দাবি, আশিক তার বাবা হত্যা মামলার আসামি বাছেরের ভাতিজা এবং ইউনুস তার ভাই। টাকার বিনিময়ে পরিকল্পিতভাবে হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে এবং ইউনুস এর নেপথ্যে ইন্ধন দিয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আশিক অতীতে ছাত্রলীগ এবং ইউনুস আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন; বর্তমানে তারা নিজেদের বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ইছালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জীবন কুমার বলেন, দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ করেছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কোনো অস্ত্র বা আলামত উদ্ধার করতে পারেনি।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইউনুসকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার পেছনে স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষের ইন্ধন রয়েছে এবং তারা অভিযুক্তদের সমর্থন দিচ্ছে বলেও এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৬ জানুয়ারি একই স্থানে হাসান আলীর বাবা ও ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির তৎকালীন সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান নিহত হন।
বর্তমান ঘটনার সঙ্গে সেই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও ঘটনার ধরনে মিল রয়েছে বলে দাবি করেছেন হাসান আলী।


























