রোববার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপ্রতিমকে বাসা থেকে মেসেজ পাঠিয়ে ডেকে নিয়ে যায় তুহিন

রানার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৩১, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপ্রতিমকে বাসা থেকে মেসেজ পাঠিয়ে ডেকে নিয়ে যায় তুহিন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে আইফোন ছিনিয়ে নিতে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপ্রতিমকে বাসা থেকে মেসেজ পাঠিয়ে জঙ্গলে নিয়ে যান তার সিনিয়র বন্ধু সাইফুল ইসলাম তুহিন। সেখানে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিমকে কৌশলে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার কাছ থেকে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেন অপ্রতিম। এ সময় ধস্তাধস্তি শুরু হলে তাকে বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ সুপার এই হত্যাকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান। পুলিশ বলছে, তারা হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।

অপ্রতিম নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে তুহিনকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, তুহিনই অপ্রতিমকে বাসা থেকে মেসেজ পাঠিয়ে ডেকে নিয়ে যান। পরে তুহিনের বাসা থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ‘শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ৬টার দিকে ওই জঙ্গলে আইফোন ছিনিয়ে নিতে গেলে অপ্রতিম তাদের বাধা দেয়। এতে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এরপর প্রথমে তুহিন, পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তারা পালিয়ে যায়।’

জেলার পুলিশপ্রধান বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের করা জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলের দিকে যাচ্ছে। এর ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। পরে নিখোঁজ অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতিমকে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় ফাহাদও জড়িত ছিল। পরে ফাহাদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায়, কামরুলও ঘটনায় জড়িত।

মো. আনিসুজ্জামান বলেন, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাসা থেকে অপ্রতিমের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় সে। সন্ধ্যার পরও বাসায় না ফেরায় তার মা কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশের লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রোববার দ্বিতীয় জানাজা শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি গোরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়। এর আগে গন্ধমতি স্কুল মাঠে দ্বিতীয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা অংশ নেন।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ