হাতে ধরে রাখা কাগজে পেন্সিলের ফলার নিখুঁত আঁচড় আর মনে মাধুরী মিশিয়ে এঁকে চলেছে একেকজন। নেই বসার জন্য কোনো চেয়ার। কাগজ রেখে ছবি আঁকতে নেই টেবিল কিংবা ইজেলের বন্দোবস্ত। তারপরও একটানা দাঁড়িয়ে থেকে দারুণ সব বিষয়বস্তু অফসেট পেপারে ফুটিয়ে তোলে কচিকাঁচারা ও তাদের অভিভাবকেরা।
ছবি আঁকার এমন অভিনব প্রতিযোগিতার দৃশ্য যশোর শহরের লালদিঘির পাড়ে ব্রাদার টিটোস (বিটিএইচ) হোম স্কুল প্রাঙ্গণে। রোববার সকালে বিটিএইচর আর্ট ডে ২০২৬ উপলক্ষে স্কুলটিতে ছিল এ আয়োজন। এদিন সন্তানদের পাশাপাশি অভিভাবকেরাও অংশ নেন ছবি আঁকার ব্যতিক্রমী এ লড়াইয়ে।
বিটিএইচর আর্ট ডে ২০২৬ উপলক্ষে স্কুলটির দেয়াল ও সীমানাপ্রাচীর রূপ নেয় একপ্রকার আর্ট গ্যালারিতে। দিনভর প্রদর্শিত হয় শিশুদের আঁকা সাড়ে চার শতাধিক ছবি।
প্রদর্শনীর বিশেষ আয়োজন ছিল অভিভাবক এবং স্কুলের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘হাতে রেখে আঁকো’ প্রতিযোগিতা। এতে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে একটি পেনসিল ও এ-ফোর সাইজের কাগজ দেওয়া হয়। শর্ত ছিল, দাঁড়িয়ে নিজের হাতের ওপর কাগজ রেখে ছবি আঁকতে হবে। ব্যতিক্রমী এ প্রতিযোগিতায় ৬৪ অভিভাবক ও শিক্ষার্থী অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।
আয়োজক সূত্র জানায়, প্রদর্শনীর ছবি বিক্রির অর্থের ৩০ শতাংশ ব্যয় করা হবে সমাজসেবামূলক কাজে। প্রতিটি ছবির সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। প্রদর্শনীতে চারটি ক্যাটাগরিতে ছবি স্থান পেয়েছে। এগুলো হলো—থ্রিডি আর্ট, ক্যালিগ্রাফি, বিউটিফুল হ্যান্ডরাইটিং উইথ ইলাস্ট্রেশন এবং জেনারেল ড্রয়িং।
স্কুলটির অধ্যক্ষ আলী আযম টিটো বলেন, ছবি বিক্রির অর্থের ৭০ শতাংশ পাবে ছবির নির্মাতা শিশু। বাকি ৩০ শতাংশ বিটিএইচ স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সমাজ ও ব্যক্তির প্রয়োজনে ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই নিজের কাজের মূল্য এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা পাবে। শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং সমাজের প্রতি দায়বোধ তৈরি করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
প্রদর্শনীতে শিশুদের কাজের প্রতি উৎসাহ দিতে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে আর্টসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসমৃদ্ধ একটি চটের ব্যাগ উপহার দেওয়া হয়।
দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রেসক্লাব যশোরের সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি কবি ও সাহিত্যিক মামুন আজাদ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ ছাড়া প্রদর্শনীর জন্য ছবি জমা দেওয়া শিশুদেরও পুরস্কৃত করা হয়।


























