রোববার ০১ নভেম্বর ২০২৬

১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বছরের পর বছর ১২ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমি পানির নিচে

জলাবদ্ধতায় আবাদ বঞ্চিত ৩০ হাজার কৃষক

প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা 

প্রকাশিত: ১২:৩৩, ১ নভেম্বর ২০২৬

জলাবদ্ধতায় আবাদ বঞ্চিত ৩০ হাজার কৃষক

দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় চলতি মৌসুমেও সাতক্ষীরার পাঁচ উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিতে আমন ধানের আবাদ করা যায়নি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, প্রায় ১২ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমি পানির নিচে থাকায় আমন চাষ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার কৃষক। সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা রয়েছে তালা উপজেলায়। বছরের পর বছর পানি জমে থাকায় অনেক জমিতে আমন চাষ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৭৩০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৩৬০, তালায় ৭ হাজার ৬৫, আশাশুনিতে ৪৫০ এবং শ্যামনগরে ৮০ হেক্টর জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার। এসব জমিতে সময়মতো আমনের চারা রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষকেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসলের মৌসুম হারাচ্ছেন।

জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি তালা উপজেলার শাকদাহ বিল। সেখানকার কৃষক সোহরাব হোসেন ও গোবিন্দ দাশ জানান, ৮ থেকে ১০ বছর ধরে তাঁরা নিজেদের জমিতে আমন ধান চাষ করতে পারছেন না। অথচ একসময় এই বিলে প্রচুর আমন ধান উৎপাদিত হতো। বর্তমানে বছরে শুধু বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় গবাদিপশুর চারণভূমিও কমে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ইকবাল আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় কৃষকেরা সময়মতো আমনের চারা রোপণ করতে পারছেন না। এতে ফসল হারানোর পাশাপাশি বীজ, সার, শ্রমিক ও জমি প্রস্তুতের খরচ নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়ছেন তাঁরা। তবে গত বছর কয়েকটি খাল পুনঃখননের ফলে এবার আমনের আবাদ প্রায় ৪৫০ হেক্টর বেড়েছে।

কৃষক আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা আশেক এলাহী বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল পুনঃখনন এবং বিলের সরকারি খাল সাধারণ কৃষকের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা জরুরি। খাল প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শিমুল মণ্ডল এলাকাভিত্তিক পানিপ্রবাহ ও পানি নিষ্কাশন নিয়ে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু ধানের জাত এবং বিকল্প চাষপদ্ধতি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
 

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: