জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের দক্ষীণ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের টেকসই কৃষি ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য ‘গোগ্রো’ প্রকল্পের আওতায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড।
চলমান গোগ্রো প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের ফসলের সঠিকমূল্য নিশ্চিত করতে সিনজেনটা ভ্যালু চেইন পার্টনারশীপ গড়ে তুলেছে। যা একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে কৃষক সরাসরি স্থানীয় ভ্যালু চেইন পার্টনার এর নিকট তাদের উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ করছে। এর ফলে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তির পাশাপাশি বাজারে টেকসই অবস্থান তৈরি করতে পারবেন। বর্তমানে স্বল্প পরিসরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকায় অর্থাৎ প্রকল্পের পাশে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে করে কৃষক খুব সহজেই সংযোগ স্থাপন করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে সিনজেনটা বাংলাদেশ এর কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স এ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, “কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি উৎপাদিত পণ্যের বাজারসংযোগ নিশ্চিত করাও কৃষকের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম পূর্বশর্ত। সে লক্ষ্যেই কৃষকদের সক্ষমতা ও আধুনিক ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষির বাস্তবতায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন ও বেসরকারি অংশীজনের সমন্বয়ে ‘গোগ্রো’প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”
২০২২ সালে যাত্রা শুরু করা ‘গোগ্রা’ প্রকল্পটি উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্থানীয় কৃষকদের আয় ও জীবনমান সমৃদ্ধ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ১২০০ কৃষককে বিভিন্ন সময়োপযোগী সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। জলবায়ু-সহনশীল ফসলের চাষ সম্প্রসারণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য পুকুর খনন, খাল পুনঃখনন, রিজেনারেটিভ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের সমন্বিত চর্চা এবং কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে, এসব উদ্যোগের ফলে প্রকল্প এলাকায় কৃষি উৎপাদন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কৃষি অভিবাসন উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে এ প্রকল্পের কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত হবে অর্থাৎ প্রায় ৩,৫০০ জন কৃষক এবং ১০০০ একর জমিকে জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা উল্ল্যেখ করেন, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে দারিদ্র্য হ্রাস, জলবায়ু কার্যক্রম এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য অংশীদারিত্বের বিষয়ে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে।


























