মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২৬

১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কপিলমুনিতে বৃক্ষরোপণে আগ্রহ বাড়ছে

নিত্যপণ্যের সঙ্গে মানুষের কেনাকাটার তালিকায় গাছের চারা 

এম আজাদ হোসেন, কপিলমুনি (খুলনা)

প্রকাশিত: ১৩:১৭, ৩ আগস্ট ২০২৬

নিত্যপণ্যের সঙ্গে মানুষের কেনাকাটার তালিকায় গাছের চারা 

চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি এখন অনেকের কেনাকাটার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে অন্তত একটি গাছের চারা। পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব উপলব্ধি করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চারা কেনা ও রোপণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।


খুলনার ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র কপিলমুনির হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটের দিনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ গাছের চারা কিনতে ভিড় করছেন। ২০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০-৩০০ টাকায় বিভিন্ন ধরনের চারা কিনে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রোপণ করছেন ক্রেতারা। নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ও সচ্ছল পরিবারের সদস্যরাও আগ্রহ নিয়ে চারা কিনছেন। অনেকে আবার একসঙ্গে বেশ কয়েকটি চারা কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।


কপিলমুনির চারার বাজারের চিত্র দেখে মনে হয়, পরিবেশ রক্ষার এই উদ্যোগে মানুষ যেন এক নীরব প্রতিযোগিতায় নেমেছে। পরিবেশবিদদের মতে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়লে তা শুধু পরিবেশ নয়, সামগ্রিক সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


জানা গেছে, সরকারের বনায়ন কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন ও স্থানীয় উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর ফলে ‘গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান’ স্লোগানটি বাস্তব রূপ পাচ্ছে। অনেকেই প্রতিদিনের সংসারের খরচের মধ্য থেকেই কিছু অর্থ সাশ্রয় করে অন্তত একটি গাছের চারা কিনছেন।
স্থানীয় নার্সারিগুলোতে ফলজ গাছের পাশাপাশি মেহগনি, শিরীষ, ইউক্যালিপটাস, নিম, গামারি, সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা উৎপাদন ও বিক্রি হচ্ছে। ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০-৪০০ টাকায় উন্নত জাতের চারাও পাওয়া যাচ্ছে। ভালো মানের চারার জন্য অনেক ক্রেতা আগাম বুকিংও দিচ্ছেন।


নার্সারি মালিকরা জানান, স্থানীয় চাহিদা পূরণ করার পর দেশের বিভিন্ন জেলাতেও তারা চারা সরবরাহ করছেন। এতে তাদের আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।


পরিবেশ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আশির দশকের পর থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে লবণাক্ত পানির প্রভাবে বহু মূল্যবান গাছ নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আইলা, সিডর, নার্গিস, বুলবুলসহ বিভিন্ন দুর্যোগ সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
পরিবেশবিদদের মতে, ফলজ গাছের পাশাপাশি অধিকহারে বনজ বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন কর্মসূচি জোরদার করা গেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা অনেকটাই সহজ হবে।


 

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: