খুলনা অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে সয়াবিন চাষ শুরু হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি মৌসুমে খুলনা ও বাগেরহাট জেলার মোট ১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ করে ২৬ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। নতুন এ উদ্যোগকে ঘিরে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে আগামী মে মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, এবারই প্রথম এ অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে সয়াবিন চাষ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ১৪ হেক্টর এবং বাগেরহাট জেলায় ৩ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ করা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সয়াবিন চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে অঞ্চলের কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। ভোজ্যতেল, পশুখাদ্যসহ বিভিন্ন শিল্পে সয়াবিনের ব্যাপক ব্যবহার থাকায় ভবিষ্যতে এ ফসলের চাহিদা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি বাজার নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, একশ্রেণির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গড়ে তুললে উৎপাদিত সয়াবিনের ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সয়াবিন সংগ্রহের উদ্যোগ নিলে তারা লাভবান হবেন বলে মত দেন কৃষকরা।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাইনবাড়িয়া গ্রামের কৃষক দেবদাস সানা বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলামের উৎসাহে আমরা এ বছর প্রথমবারের মতো সয়াবিন চাষ করেছি। ফলন ভালো হলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে চাষ করব।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো ১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ করা হয়েছে। ২৬ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন শিল্প ও খাদ্য উৎপাদনে সয়াবিনের ব্যবহার বাড়ায় কৃষকদের মধ্যেও এ ফসলের চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং উৎপাদিত সয়াবিনের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে খুলনা অঞ্চলে সয়াবিন একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হতে পারে।


























