কৃষকদের মধ্যে ফসল সুরক্ষা পণ্যের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নকল, ভেজাল ও অনুমোদনহীন কৃষি উপকরণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে যশোরে সচেতনতামূলক সেশন আয়োজন করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর বিশ্বাস। সিনজেনটা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ক্রিস আর্জেন্ট, হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি, এশিয়া, মিডিল ইস্ট ও আফ্রিকা, ব্রুনো আনানিয়াস, হেড অব সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড রেসপনসিবল বিজনেস, এশিয়া, মিডিল ইস্ট ও আফ্রিকা এবং মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি, সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড।
অনুষ্ঠানে ১০ জন সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ৪০ জন কৃষক, ১০ জন চ্যানেল পার্টনার ও সিনজেনটা বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সিনজেনটা বাংলাদেশের ‘প্রজেক্ট শিল্ড’ কৃষি স্টুয়ার্ডশিপ জোরদার, ফসল সুরক্ষা পণ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত এবং নকল, ভেজাল ও অনুমোদনহীন কৃষি উপকরণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ। সেশনটিতে ফসল সুরক্ষা পণ্যের নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার, আসল পণ্য শনাক্তকরণ এবং নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণ ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় কৃষকদের কাছে মানসম্মত ও আসল কৃষি উপকরণ পৌঁছে দেওয়া এবং এসব পণ্যের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, নকল ও নিম্নমানের কৃষি উপকরণ শুধু কৃষকের আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়; এর নেতিবাচক প্রভাব ফসলের উৎপাদন, পরিবেশ এবং পুরো কৃষি মূল্যশৃঙ্খলে পড়তে পারে। এ কারণে কৃষক, সরকারি সংস্থা, চ্যানেল পার্টনার ও কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তারা বলেন, কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীলভাবে কৃষি উপকরণ ব্যবহার, কার্যকর নজরদারি এবং দ্রুত নকল পণ্য শনাক্ত করতে পারলে কৃষকের স্বার্থের পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতকেও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
সেশনে অংশ নেওয়া কৃষক, ডিএই কর্মকর্তারা ও চ্যানেল পার্টনাররা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। আলোচনায় নকল পণ্য প্রতিরোধ এবং নিরাপদ কৃষি উপকরণ ব্যবহারে স্থানীয় পর্যায়ে আরও শক্তিশালী সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
সিনজেনটা বাংলাদেশ জানিয়েছে, সরকারি সংস্থা, কৃষক, চ্যানেল পার্টনার ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে দেশে আরও নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।


























