রোববার ০১ নভেম্বর ২০২৬

১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবারও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

আল জাজিরা

প্রকাশিত: ১০:১১, ১ নভেম্বর ২০২৬

আবারও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

ছবি : আল–জাজিরা

ফ্রান্সে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো লাখ লাখ তরুণ ও শিক্ষার্থীর বিক্ষোভে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। শনিবারের (৩১ অক্টোবর) এই আন্দোলন ঠেকাতে দেশজুড়ে তিন লাখ ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন, যার মধ্যে রাজধানী প্যারিসেই ছিলেন ৭০ হাজার। তবে মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী জোটের মতে মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ লাখ এবং শুধু প্যারিসেই যোগ দিয়েছিলেন দুই লাখ মানুষ।

প্যারিস এবং লিয়ন শহরে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা দিয়ে কর্মসূচি শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। প্যারিসের মূল পদযাত্রা শেষ হওয়ার স্থানে ডাস্টবিন ও রাস্তার আসবাবপত্রে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ে স্থান থেকে সরাসরি আল জাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার জানান, ‘আমরা যা দেখছি... তাহল পুলিশ এই ভিড়ের মধ্যে প্রচুর টিয়ার গ্যাস ছুড়ছে।’ তিনি নিজের দলের সরে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের সরে যেতে হয়েছিল কারণ আমাদের জন্য শ্বাস নেওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল।’

সহিংসতার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে নাতাশা বাটলার বলেন, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী সহিংসতার নিন্দা করলেও অনেকেই সরকারের না শোনার মনোভাবকে দায়ী করছেন। বিক্ষোভকারীদের মনোভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে যারা বারবার রাস্তায় নেমেছেন তাদের দেখে আপনারা সত্যিই বুঝতে পারবেন যে তারা স্রেফ সরকারকে আর বিশ্বাস করেন না। সেই আস্থা ভেঙে গেছে।’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেস মোতায়েন করা হয় এবং ফরাসি অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ হ্যালোইনের রাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’ বিষয়ে সতর্ক বার্তা দেন। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু এ সপ্তাহে শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে কয়েকটি বৈঠক করেছেন এবং ব্যয় কমানোর ব্যবস্থা খুঁজছেন। 

এর আগে গত মাসে জরাজীর্ণ ভবন, শিক্ষক সংকট এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে পরে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো তাতে যোগ দেয়। ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন যা দুর্ধর্ষ দাঙ্গায় রূপ নেয়।

ফ্রান্সের এই অসন্তোষের ঢেউ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। জার্মানির কোলন শহরে মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষায় ছাঁটাই এবং সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের ওপর ওয়াটার ক্যানন ব্যবহার করেছে পুলিশ, যেখানে দেশটির ৩০টিরও বেশি শহরে মোট এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ নিবন্ধিত হন। এছাড়া স্পেনের বার্সেলোনায় ২৪ অক্টোবরের দাঙ্গায় ১৩০ জন গ্রেপ্তারের পর উচ্চ সতর্কতাবস্থানে রয়েছে পুলিশ, একইভাবে ইতালির মিলান, তুরিন ও বোলোনিয়া শহরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

 

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: