খাল খনন প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ করার দিন শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত শাসনামলে প্রকল্পের ৮০ শতাংশ টাকা লোপাট করে মাত্র ২০ শতাংশ কাজ করার যে সংস্কৃতি ছিল, তা বর্তমান সরকার বরদাস্ত করবে না। ফলে জনগণের উন্নয়নের টাকা যারা পকেটে ভরার স্বপ্ন দেখছেন তাদের সতর্ক হতে হবে। সরকারি কাজের গুণগতমান নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।
মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পর শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী এলাকায় আসলে বিকাল ৫টায় মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের আয়োজিত ‘নাগরিক সংর্বধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিতাই রায় চৌধুরী এসব কথা বলেন।
নাগরিক সবংর্ধনা অনুষ্ঠান থেকেই সংস্কৃতিমন্ত্রী মাগুরায় চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন। এছাড়াও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
মন্ত্রী বলেন, অপরাধ যে করবে, চাঁদাবাজি যে করবে- সে যে দলেরই হোক, সরকারি কর্মচারী হোক বা অন্য কেউ হোক- আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। অপরাধ করলে সকলের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা হবে।
এরআগে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিতাই রায় চৌধুরী বিএনপির মনোনয়নে মাগুরা-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিপরিষদে। সেই থেকেই এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে উৎসবের আমেজ।
শুক্রবার প্রথমবারের মতো সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর নিজ নির্বাচনী এলাকায় আগমণ উপলক্ষে সকালে ফরিদপুর-মাগুরা জেলার সীমান্তবর্তী কামারখালীর গড়াই সেতু থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানায় হাজারো নেতাকর্মীরা।
পরে মাগুরা সার্কিট হাউসে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
এ সময় বক্তব্যে নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেন, ‘অনেকে চাঁদাবাজি করে বিএনপির নাম দেয়। আবার অনেকে মাদক ব্যবসা করছে, তারা বিএনপি লোক না। এমন সংজ্ঞার পরিবর্তে ‘অপরাধ যে করবে, চাঁদাবাজি যে করবে- সে যে দলেরই হোক, সরকারি কর্মচারী হোক বা অন্য কেউ হোক- আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। অপরাধের বিচার হবে তিনি মন্তব্য করেন’
সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অপরাধ দমনে দলীয় পরিচয় বিবেচ্য নয়। গত ১৬ বছরে আমরা দেখেছি নানা ধরনের অপরাধ ও অপকর্ম হয়েছে। বিএনপির বহু নেতাকর্মী শত’ শত’ মামলায় আসামি হয়েছেন, জেল খেটেছেন। অনেক ক্ষেত্রে বিনা কারণে বাড়িতে অস্ত্র ঢুকিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগও ছিল।’ সবমিলিয়ে গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপির অনন্য অবদান রয়েছে। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিএনপি ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে।
জুলাই-আগস্টের আন্দোলন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, জুলাই-আগস্টের বিপ্লবী অভ্যুত্থান হঠাৎ আসেনি। এর পেছনে গভীর প্রেক্ষাপট আছে। সেই গভীরতাটা বুঝতে হবে।
চাঁদাবাজিসহ অপরাধীদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট দলকে টার্গেট করে নয়; বরং সব ধরনের অপরাধ আইনের আওতায় আনা হবে। বিএনপির কেউ চাঁদাবাজি করলে আমরা খুঁজব, আর অন্যরা করলে দেখব না- এটা হবে না। সরকারি কর্মচারী ঘুষ খাক বা সাধারণ মানুষ, অপরাধ করলে সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


























