শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি

সাতক্ষীরা-যশোরাঞ্চলে ভূমিকম্পের বিগত দিনের অনুভূতি ছাপিয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড

রানার প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:০৫, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২২:১০, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সাতক্ষীরা-যশোরাঞ্চলে ভূমিকম্পের বিগত দিনের অনুভূতি ছাপিয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অনেকগুলো ভূমিকম্পের অনুভূতি ছাপিয়ে সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা  অঞ্চলে শুক্রবারের ভূমিকম্পের সময় নিজেদের ভীতিকর অবস্থা ও আশাংকার অভিজ্ঞতার আলোচনা সর্বত্র। অধিকাংশ মসজিদগুলোতে তখন জুম্মার নামাজ শেষপ্রান্তে। বেলা ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে ভূকম্পনটি অনুভূত হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৫ দশমিক ৪। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। 
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইএমএসসি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গোসাবা থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ভৃপৃষ্ঠ থেকে ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গত দুদিনে আরও দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে অনুভূত মৃদু ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে প্রায় ৪৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভারতের সিকিম অঞ্চলে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানায়, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬। তার আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ৫১ মিনিটে আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১।

ভূমিকম্পে সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা অঞ্চলের মানুষ শক্ত ঝাঁকুনি অনুভব করেছেন। আতঙ্কিত হয়ে বাসাবাড়ি ও বহুতল ভবন থেকে বাসিন্দারা দ্রুত রাস্তায় নেমে আসেন। কিছু কিছু মসজিদে জুমার নামাজের শেষপ্রান্তে থাকা মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 
স্থানীয়দের মতে, বিগত দিনের ভূমিকম্পের অনুভূতি ছাপিয়ে যশোরাঞ্চলে এটা সর্বোচ্চ অনুভূতির রেকর্ড গড়লো। এমন অসংখ্য অনুভূতি এবং আতঙ্কের অভিজ্ঞতার কথা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।  
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পরিচালিত যশোরের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে মাঝারি থেকে শক্তিশালী এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি। হঠাৎ এই কম্পনে পুরো শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মসজিদ ও ভবন থেকে বের হয়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুম্মার নামাজ চলাকালীন হঠাৎ করেই মসজিদসহ আশপাশের বহুতল ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। যশোর বারের অ্যাডভোকেট ইদ্রিস আলী বলেন, ‘কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, নামাজের কাতারেই অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আমার ৭০ বছর বয়সে এমন ঝাঁকুনি আগে অনুভব করিনি।’
কয়েকজন মুসল্লি জানান, নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে উঠছিলেন তারা। এসময় পায়ের নিচে মাটি কেঁপে ওঠে। তাৎক্ষণিকভাবে মোটরসাইকেল থেকে নেমে নিরাপদ স্থানে সরে যান।
শহরের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এর আগে কখনো এমন ভয়াবহ ঝাঁকুনি অনুভব করিনি। মনে হচ্ছিল ভবনটি এখনই ধসে পড়বে। কম্পন শুরু হওয়া মাত্রই অনেকেই ভবন ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।’
আরও কয়েকজন জানান, জুম্মার নামাজ শেষে চায়ের দোকানে বসা অবস্থায় হঠাৎ মাটি কেঁপে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকের মনে হয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল খুব কাছেই।
তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। এরপরও ভূমিকম্পের পর পুরো শহরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে বহুতল ভবনের বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় নিচে অবস্থান করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

যশোর শহরের ওয়াপদা পাড়ার বাসিন্দা নাঈম রেজা বলেন, ‘ছয়তলা ভবনের চতুর্থতলায় স্বপরিবারে বসবাস করেন। ভূমিকম্পের সময় মনে হলো- পুরো বিল্ডিং একবার এপাশে ঝুকে পড়লো, পরে আরেক পাশে ঝুকলো। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে আরও একাধিক ভূমিকম্প হয়েছে, তবে এমন অনুভূতি এবং ভয় আগে পায়নি।   
শহীদুজ্জামান শিমুল, সাতক্ষীরা  জানান, ভূমিকম্পে বিভিন্ন অঞ্চলে বেশকিছু মাটির বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনায় ফাটল দেখা দিয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলায় তিনজন আহত হওয়া ছাড়া কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের শক্ত ঝাঁকুনিতে নামাজ পড়তে যাওয়া অনেকে আতঙ্কিত হয়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যান। এ ছাড়া হাসপাতালে রোগীদের ও আতঙ্কিত হয়েও দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা গেছে।

সাতক্ষীরা সদরের বাসিন্দা সংবাদকর্মী মৃত্যুঞ্জয় রায় মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি ভূমিকম্পের সময় বিছানায় শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ দেখেন পুরো খাট নড়ছে। তিনি বলেন, ‘ভাবলাম কিসে কী? তারপর চিৎকার দিতে দিতে বাইরে বেরিয়ে আসি।’ মৃত্যুঞ্জয় রায় আরও বলেন, ভূমিকম্পের সময় তাঁর মনে হচ্ছিল, পাঁচতলা ভবন এপাশে-ওপাশে নড়ছে। জোরে ঝাঁকুনির কারণে তাঁর মনে হচ্ছিল, ঝড় হলে গাছের ডালগুলো যেমন এপাশে-ওপাশে দুলতে থাকে, ভবনটিও সেভাবে দুলছিল।

জানা গেছে, সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটায় কয়েকটি মাটির ঘরের খোলার চাল ভেঙে পড়েছে। সাতক্ষীরার কাটিয়া এলাকার গৃহবধূ রোকসানা আক্তার বলেন, তিনি তখন ঘরের মধ্যে টুকটাক কাজ করছিলেন। হঠাৎ তার মনে হচ্ছিল, তিনি ডানদিকে একবার তারপর বাম দিকে ঢলে পড়ছেন। আতঙ্কিত হয়ে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। আশপাশের কিশোর-কিশোরীসহ সর্বস্তরের মানুষের চিৎকার শুনেছেন তিনি।
একই এলাকার বাসিন্দা জাহারুল ইসলাম টুটুল বলেন, তিনি মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়ছিলেন। দোতলা মসজিদটি দোল খাওয়া শুরু করলে তারা মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসেন।
এদিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা মহাশশ্মানের প্রাচীর ভেঙে পড়েছে। মন্দিরে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ভূকম্পনের সময় অনেকের বাড়ির গ্যাসের চুলা ও আসবাবপত্র পড়ে ভেঙে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ঝাউডাঙ্গা মহাশ্মশানের সাধারণ সম্পাদক চন্ডী ঘোষ বলেন, তাদের শ্মশানের প্রাচীর ভেঙে রাস্তার উপর পড়েছে। তবে, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আশাশুনির খাজরা গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণ ব্যানার্জী বলেন, ভূমিকম্পে তার দোতলা বাড়ির দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভূমিকম্পের সময় তাদের এলাকার অনেকেই ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে চলে আসেন। এতে মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
অনাথ মন্ডল, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) জানান, শুক্রবার বেলা ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কোথাও মাটির ঘর আংশিক ধসে পড়েছে, আবার কোথাও ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেয়াল, ছাদ, পিলারসহ বিভিন্ন অংশ। 
উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাখালি এলাকায় শফিকুল ইসলাম জানান, ভূমিকম্পে তার একমাত্র মাটির ঘরটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরের দেয়ালে ফাটল ও কিছু অংশ ধসে পড়ায় পরিবার নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন তিনি।
এদিকে শ্যামনগর পৌরসভার নূর কমপিউটার মার্কেটের পাশে অবস্থিত তালাবদ্ধ আওয়ামী লীগ অফিসের ভবনে ফাটল ধরেছে বলে স্থানীয়রা জানান। একই এলাকার পার্শ্ববর্তী আরও কয়েকটি ভবনেও ফাটল দেখা গেছে।
অপরদিকে গাবুরা ইউনিয়নের হরিশখালি এলাকায় একটি মসজিদে ফাটল ধরার পাশাপাশি ভেতরের টাইলস খুলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আতঙ্কে ছিলেন নদীর তীরে বসবাসরত মানুষরা। উপজেলার চুনকুড়ি নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা আকবর হোসেন বলেন, ‘ভূমিকম্পের সময় নদীর পানি অনেক ওপরে উঠে প্রচণ্ড ঢেউ তুলেছিল। তবে নদীতে ওই সময় ভাটা থাকায় কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আমরা নামাজের জন্য মসজিদে ছিলাম এসময় অনেকে ভয় পেয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়। অনেকক্ষণ পর বুঝতে পেরেছি, ভূমিকম্প হয়েছে। তবে জীবনে এমন কম্পন আগে আর কখনো দেখিনি।’
আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাজারের অনেক ব্যবসায়ীরা। কম্পনের সময় হুড়োহুড়িতে সবাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে সড়কে বের হয়ে আসেন। শ্যামনগর পৌরসভা এলাকার নকিপুর বাজারের এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী পলাশ সাহা বলেন, ‘আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। মনে করেছিলাম, কেউ ঠেলা দিচ্ছে। পরে দেখি আমাদের মার্কেটের ভবন কাঁপছে। এরপর সবাই দৌড়ে বের হয়ে মার্কেটের সামনের রাস্তায় গিয়ে দাঁড়ায়। সে সময় দেখি আশপাশের মার্কেটের ও মসজিদের মুসল্লিরা সবাই রাস্তায় বের হয়েছে।’
এদিকে ভূমিকম্পে আহত হয়ে তিনজন শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসা নিয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তাদের মধ্যে উপজেলার ভূরুলিয়া এলাকার নুর আলী মোড়লের স্ত্রী ফয়জুন্নেছা (৭৫) বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অপর দুইজন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের গুমানতলী এলাকার আমিনুর রহমানের ছেলে আরিফুল ইসলাম (১৮) ও গর্ভবতী নারী আটুলিয়া ইউনিয়নের হাওলভাঙ্গী এলাকার সোহেল হোসেনের স্ত্রী আঁখি আক্তার (২০) প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরেছেন।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাকির হোসেন জানান, ভূমিকম্পে আহত হয়ে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে বয়স্ক ফয়জুন্নেছা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সংবাদদাতা, খুলনা জানান- খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে খুলনায় মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প হয়েছে। যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন অনেকেই। তবে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি।
প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা জানান- চুয়াডাঙ্গায় শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়। এটি কয়েক সেকেন্ডের মতো স্থায়ী ছিল। তবে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি। চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলা। চুয়াডাঙ্গা কলেজ রোডের মুদি ব্যবসায়ী শহিদুল হক বলেন, এটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। পুরো দোকান কাঁপছিল। আমি আতঙ্কে বাইরে বের হয়ে যাই।
রাজা মিয়া নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, মসজিদে নামাজ পড়ছিলাম। হঠাৎ ঝাঁকুনি শুরু হয়। প্রথমে ভয় পেলেও পরে নিশ্চিত হয়েছি এটা ভূমিকম্প ছিল। ভয়ে অনেকেই মসজিদ থেকে বের হয়ে পড়েন।


 

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: