বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গভীর সমুদ্রে জ্বালানি হাবের পরিকল্পনা

ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২১:৩৭, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গভীর সমুদ্রে জ্বালানি হাবের পরিকল্পনা

এলএনজি আমদানি ও পুনঃগ্যাসীকরণ, সমুদ্রের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে গভীর সমুদ্রকে দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, সমুদ্রের ২৬টি ব্লকে আন্তর্জাতিক কোম্পানির মাধ্যমে অনুসন্ধান এবং ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারের জ্বালানি পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি কমানো এবং আকস্মিক সংকটে শিল্প উৎপাদন সচল রাখাই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।

১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা
সমুদ্রভিত্তিক জ্বালানি অনুসন্ধানে বড় পদক্ষেপ হিসেবে ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়। দরপত্র জমার সময়সীমা রাখা হয়েছে ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত।
দেশে বর্তমানে ২৬টি অফশোর ব্লক রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি অগভীর সমুদ্র এবং ১৫টি গভীর সমুদ্রের ব্লক।  এই ব্লকগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস বা তেলের মজুত পাওয়া গেলে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। 

শিল্পে গ্যাস সরবরাহের আকস্মিক সংকট মোকাবিলায় ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আকস্মিক বা সাময়িক সংকটকালে শিল্পখাত যেন গ্যাস সংকটের সম্মুখীন না হয়, সেজন্য সরকার ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে।’

দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সমুদ্রের ২৬ ব্লকে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান
সমুদ্র অঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত।

স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রমও নেওয়া হয়েছে।
গভীর সমুদ্রে নতুন এলএনজি টার্মিনাল

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ির স্থলভিত্তিক টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে পুনঃগ্যাসীকৃত এলএনজি সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

এর বাইরে পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলের সুবিধাজনক স্থানে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলও ভবিষ্যৎ এলএনজি অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। আকস্মিক সংকট মোকাবিলায় মহেশখালীর কুতুবজোমে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে একটি স্থলভিত্তিক টার্মিনাল স্থাপনের কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতে আকস্মিক সংকট সামাল দিতে মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।’

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের ভাসমান টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ির স্থলভিত্তিক টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে পুনঃগ্যাসীকৃত এলএনজি সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

এ ছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলের সুবিধাজনক স্থানে জরুরি ভিত্তিতে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ৩০ শতাংশের লক্ষ্য
জ্বালানি নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক সৌরপ্রকল্প থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সংস্থান রাখা হয়েছে। এর বাইরে বায়ু, বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌর ও অ্যাগ্রিভোলটেইক্স থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ: