সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের সাবেক নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে তার মায়ের মৃত্যুর পর পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
চিন্ময়ের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, মায়ের মৃত্যুর কারণে তার ভাইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইন অনুযায়ী চিন্ময় কৃষ্ণকে প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সকালে হাটহাজারীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিন্ময়ের মা সন্ধ্যা রানী ধর (৭০) মারা যান। হাটহাজারী উপজেলার পুণ্ডরীক ধাম মন্দিরে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। চিন্ময়কে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং শেষকৃত্য শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর, ৩১ অক্টোবর দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সে সময় আদালত চত্বরের বাইরে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
ভাঙচুর, হামলা, সংঘর্ষ এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তখন তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোতে ৭৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১ হাজার ৪০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
পরে আলিফের বাবা জামাল ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তার ভাই খান-এ-আলম কোতোয়ালি থানায় ৭০ জন আইনজীবীসহ মোট ১১৫ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি আদালত চিন্ময় কৃষ্ণসহ ৩৯ জন আসামির বিরুদ্ধে এই হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন।
চিন্ময় এ পর্যন্ত পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে অন্যান্য মামলা চলমান থাকায় তিনি কারাগারেই রয়েছেন।


























