বাংলাদেশ ও ফ্রান্স পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, বিমান চলাচল, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে। দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান ফরাসি রাষ্ট্রদূত। এ সময় দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্সের অব্যাহত সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান তিনি।
অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মহাকাশ, প্রযুক্তি ও ওষুধ খাতে বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বৈধ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন (ইউএনজিএ) সামনে রেখে বৈঠকে দুই পক্ষ নিজেদের অগ্রাধিকার ও প্রত্যাশা নিয়ে মতবিনিময় করে। জলবায়ু পরিবর্তন, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় স্থান পায়।
বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে ফ্রান্সের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে। তিনি বাংলাদেশ সরকারের গণতান্ত্রিক সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ঢাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গার জন্য ফ্রান্সের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন হুমায়ুন কবির। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির কথাও জানায় উভয় পক্ষ।


























