ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর-সাফদারপুর সড়কের ২ হাজার ৬০০ মিটার মেরামতকাজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে তিন মাস আগে। তবে এখনো কাজ শেষ হয়নি। ধীরগতিতে কাজ চলায় সড়কে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও যানবাহন চালকেরা। পাশাপাশি মেরামতকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর-সাফদারপুর সড়কের বড় বিল এলাকা থেকে সাফদারপুরের মকছেদ মোড় পর্যন্ত ২ হাজার ৬০০ মিটার সড়ক মেরামতের জন্য প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসমা ইঞ্জিনিয়ারিং।
চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি কাজ শুরু করে ১৭ মে শেষ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কাজ শেষ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই ধীরগতিতে কাজ করছে। দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কারের জন্য খোলা থাকায় বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে।
শালকোপা গ্রামের বিকাশ ঘোষ বলেন, ‘দীর্ঘদিন সড়কটি খারাপ ছিল। এরপর কাজ শুরু হয়েছে, তাও ছয়-সাত মাস হতে চলল। তারপরও কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমি দুধের ব্যবসা করি। দিনে-রাতে একাধিকবার এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। কাজ শুরুর পর ধীরগতির কারণে সড়কে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। অনেক সময় যানবাহন নষ্ট হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। একাধিকবার বিষয়টি বললেও তারা নিজেদের মতো করে কাজ করছে।’
লক্ষ্মীকুণ্ড গ্রামের আনিসুর রহমান বলেন, ‘সড়কটি নিয়ে আমরা চরম বিপাকে আছি। অনেক সময় খানাখন্দে পড়ে যানবাহন উল্টে যায় বা আটকে থাকে। তখন আমাদের কাজ ফেলে তাদের সহযোগিতায় ছুটে যেতে হয়।’
নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার দেখামতে সড়কে যে সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে, তা দুই-তিন নম্বরের। তবে সামগ্রী যেমনই হোক, অন্তত কাজটি শেষ করে আমাদের এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করা হোক।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো তথ্য না দিয়ে বলেন, ‘প্রকৌশলীর দপ্তরে সব তথ্য দেওয়া আছে। আপনারা অফিস থেকে তথ্য নিয়ে নেন।’
কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রকৌশলী কল্পনা রানী সাহা বলেন, ‘নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কাজের ধীরগতি নিয়ে আমি এবং নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার ঠিকাদারকে একাধিকবার মৌখিকভাবে ও চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছি। এরপরও প্রতিনিয়ত অভিযোগ পাচ্ছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
তিনি বলেন, ‘কোনো ঠিকাদার কাজ করতে না চাইলে আমরা জোর করে কাজ করাতে পারি না। তারপরও কাজটি সম্পন্ন করানোর জন্য সার্বক্ষণিক চেষ্টা করছি।’
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর ওই সামগ্রী সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, ‘মেয়াদ শেষ হলেও নিয়ম অনুযায়ী কাজের মেয়াদ বাড়তে পারে।’
কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসাইন বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা নেই। তবে বুধবার সকালে প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে কাজটি পরিদর্শন করব।’


























