বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের পাটপণ্যে ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ

​​​​​​​ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২০:৩৫, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২০:৪৫, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের পাটপণ্যে ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ

বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর নতুন করে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। দেশটি বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটের সুতা, টুইন, হেসিয়ান কাপড় ও পাটের বস্তার ওপর প্রতি টনে ৫৯ থেকে সর্বোচ্চ ৪৪৫ মার্কিন ডলার পর্যন্ত শুল্ক নির্ধারণ করেছে। ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২৪ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে এ শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়।

ভারতের বাণিজ্য প্রতিকার মহাপরিদপ্তর (DGTR) ২০২৫ সালের জুনে এ বিষয়ে মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা শুরু করে। ২০২৬ সালের ২৫ জুন চূড়ান্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশের পর নতুন করে শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতের সরকারি নথিতে সংশ্লিষ্ট পণ্য হিসেবে জুট ইয়ার্ন/টুইন, হেসিয়ান ফ্যাব্রিক, জুট স্যাকিং ব্যাগ ও স্যাকিং ক্লথের কথা উল্লেখ রয়েছে।

বাংলাদেশের ৩৬টি পাটপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর আলাদা হারে এ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কত হারে শুল্ক কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের তালিকা অনুযায়ী পৃথক।

দুই মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৩৭%

ভারতের নতুন শুল্কের মধ্যে পাট খাতে বাংলাদেশের রপ্তানিতে সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিও দেখা যাচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ১১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৭ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮৮ কোটি ৩৭ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৮২ কোটি ৮ লাখ ডলারের তুলনায় ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। তবে ২০২০-২১ অর্থবছরে রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের তুলনায় বর্তমান আয় এখনো কম।

পাঁচ বছরে রপ্তানি ২০০ কোটি ডলারের লক্ষ্য

পাট খাত পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার ২০২৬-২০৩১ মেয়াদে পাঁচ বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। পরিকল্পনায় ২০৩১ সালের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে বছরে ২০০ কোটি ডলার আয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাটের উচ্চমূল্যের ও বহুমুখী পণ্য উৎপাদন বাড়ানো, পণ্যের বৈচিত্র্য তৈরি এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনায় কাঁচা পাটের পরিবর্তে মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য রপ্তানির দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে পাটের সুতা, বস্তা ও ব্যাগের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানি হচ্ছে। তুরস্ক, চীন, ভারত, মিসর, উজবেকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে এসব পণ্যের বাজার রয়েছে।

এদিকে ভারতের নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পাটপণ্য রপ্তানিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। ফলে একদিকে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, অন্যদিকে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন ও নতুন বাজারে প্রবেশ—এই দুই বিষয়ই পাঁচ বছরের পরিকল্পনার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: