বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২৬

১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলপিজির দামে আগুন, কৃত্রিম সংকট খতিয়ে দেখতে ডিসিদের নির্দেশ

​​​​​​​ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২১:০৯, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এলপিজির দামে আগুন, কৃত্রিম সংকট খতিয়ে দেখতে ডিসিদের নির্দেশ

বাংলাদেশে এলপিজির সামগ্রিক সরবরাহে সংকট নেই—আমদানিকারক ও অপারেটরদের এমন দাবির মধ্যেই বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কোথাও আবার বাড়তি দাম দিয়েও সিলিন্ডার মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে এলপিজির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুতদারি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মাঠপর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

বুধবার সচিবালয়ে ডিসিদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ নির্দেশ দেন। কোনো এলাকায় প্রকৃত সরবরাহ ঘাটতি থাকলে তা চিহ্নিত করে সরবরাহ বাড়ানোর ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম সংকট বা নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

১,৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজারের ওপরে

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু রাজধানীসহ সারাদেশে একই সিলিন্ডার ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ ২ হাজার ১৫০ টাকা দরে কিনলে একজন ভোক্তাকে বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫৬৫ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।

সরবরাহ আছে, বাজারে সংকট কেন?

গত ২৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা বাজারে সামগ্রিক সংকট নেই বলে মন্ত্রীকে জানান। তারা আমদানি ও মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলেও দাবি করেন। একই সময়ে মন্ত্রী সতর্ক করেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি করা যাবে না এবং কেউ যেন মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে।

পরদিন তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও বলেন, সরকারি পর্যালোচনায় দেশে এলপিজির আমদানি, মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় দাম বাড়ার প্রবণতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বছরে চাহিদা প্রায় ১৬ লাখ টন

বাংলাদেশে বছরে এলপিজির চাহিদা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন। প্রায় ১ কোটি মানুষ এ জ্বালানি ব্যবহার করেন। মোট ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশ গৃহস্থালির রান্নায় যায়। চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

ফলে আমদানি থেকে শুরু করে অপারেটর, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা—সরবরাহ ব্যবস্থার কোনো একটি স্তরে সমস্যা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ ভোক্তার ওপর।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: