বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২৬

১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাসের অভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ সার উৎপাদন

দুই বছরে যমুনায় উৎপাদন মাত্র ৩ দিন, ১৯ মাস বন্ধ আশুগঞ্জ

​​​​​​​ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২১:১৪, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই বছরে যমুনায় উৎপাদন মাত্র ৩ দিন, ১৯ মাস বন্ধ আশুগঞ্জ

গ্যাস সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। জামালপুরের তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় গত দুই বছরে মাত্র তিন দিন উৎপাদন হয়েছে। একই কারণে আশুগঞ্জ সার কারখানায় টানা ১৯ মাস ধরে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে কৃষকের চাহিদার গুরুত্বপূর্ণ এই সার উৎপাদনে আমদানিনির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে সারের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি।

বুধবার সংসদ ভবনে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনার সময় সার উৎপাদন, মজুত ও বিতরণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি ও সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

যমুনায় সক্ষমতা ১,৭০০ টন, উৎপাদন নেই

জামালপুরের তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর টানা ২৩ মাস ৯ দিন উৎপাদন বন্ধ ছিল। এরপর ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর কারখানাটিতে আবার ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়।

কারখানাটির দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এর উৎপাদিত সার দেশের ১৯ জেলায় সরবরাহ করা হয়। কিন্তু উৎপাদনে ফেরার পরও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় পূর্ণ সক্ষমতায় কারখানাটি চালানো যাচ্ছে না।

চলতি বছরের ৭ জুন সংসদে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছিলেন, গ্যাস সংকটের কারণে যমুনা সার কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া গেলে কারখানাটি চালাতে সমস্যা হবে না বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

১৯ মাস ধরে বন্ধ আশুগঞ্জ

একই কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ২০২৫ সালের ১ মার্চ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর থেকে কারখানাটিতে উৎপাদন চালু করা যায়নি।

আশুগঞ্জ সার কারখানার দৈনিক অন্তত ১ হাজার ১৫০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন কারখানাটি বন্ধ থাকায় বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য স্থানীয় উৎপাদন থেকে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে।

গত জুনে সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছিলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে গ্যাস সরবরাহ করায় তখন আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।

বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন।

পুরোনো কারখানা আধুনিক করার সুপারিশ

বৈঠকে বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ‘পে-অফ’ করা সার কারখানাগুলোর বিষয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি। এসব কারখানা পুনরায় চালু করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনাও জানতে চাওয়া হয়।

একই সঙ্গে পুরোনো সার কারখানাগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে কমিটি। এতে দেশে উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কৃত্রিম সংকটে ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ

বৈঠকে সারের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এমন ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের কোথায় কত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে এবং কোথায় তা সরবরাহ করা হচ্ছে—তা তাৎক্ষণিকভাবে জানার জন্য ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে।

বীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার তাগিদ

বৈঠকে বীজ উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: