বুধবার ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জেলার ছয়টি আসন

যশোরে বিএনপির চার প্রার্থী কোটিপতি, তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাও নেই

রানার প্রতিবেদক 

প্রকাশিত: ১৭:১০, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৭:১১, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

যশোরে বিএনপির চার প্রার্থী কোটিপতি, তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাও নেই

যশোর জেলার ছয়টি আসনে বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে চারজন কোটিপতি। এছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৫৩টি মামলার তথ্য মিলেছে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নামে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে দায়েরকৃত এসব মামলার মধ্যে ৪৬টিতে তিনি খালাস পেয়েছেন আর ৭টি মামলা এখনো চলমান রয়েছে। এছাড়াও যশোর-১ আসনে নুরুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে ৯টি, যশোর-২ আসনে সাবিরা নাজমুলের বিরুদ্ধে ১১টি মামলার মধ্যে ৮টিতে খালাস পেয়েছেন, বাকি তিনটি মামলার চলমান আছে। তবে, যশোর-৪ আসনের মতিয়ার রহমান ফারাজী, যশোর-৫ আসনে রশীদ আহমাদ ও যশোর-৬ আসনে আবুল হোসেন আজাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া ব্যক্তিগত তথ্য ও সম্পদ বিবরণী থেকে এসব তথ্য মিলেছে।
হলফনামায় দেয়া সম্পদের বিবরণী মতে, যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। মামলা রয়েছে ৯টি। তার ১ কোটি ৯৫ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪৮ টাকার সম্পদ রয়েছে।
আর নগদ টাকা ও ব্যাংক হিসাবে দেখিয়েছেন এক কোটি ৮৭ লাখ ৯৮ হাজার ৬৪৮ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমি আছে ১০০৯ শতক, যার মূল্য এক লাখ ৯ হাজার ৮৪ হাজার ৮০০ টাকা। এছাড়া বেনাপোল ও যশোরে মিলে ভবনের দাম দেখিয়েছেন ৫০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। স্বর্ণ দেখিয়েছেন ১০ ভরি যার মূল্য দেখিয়েছেন এক লাখ ২০ হাজার টাকা।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানার শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক। পেশা দেখিয়েছেন গৃহিণী, ব্যবসা ও সমাজসেবা। মামলা রয়েছে মোট ১১টি, যার মধ্যে ৮টিতে খালাস পেয়েছেন আর ৩টি চলমান। তিনি ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। তার নগদ অর্থ আছে ৭ লাখ ৮০ হাজার ৩৮০ টাকা। এছাড়া ৭টি ব্যাংক হিসাবে ৬৫ লাখ ৭১ হাজার ১৩১ টাকা শেয়ার ব্যবসা ও অংশীদারি ব্যবসা মিলে আরও ১ কোটি ৪৫ লাখ ২৩ হাজার ৮৯৫ টাকা রয়েছে। ৩০ তোলা স্বর্ণের দাম দেখিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ৩০ হাজার টাকার ইলেকট্রিক পণ্য ও আসবাবপত্র রয়েছে ২০ হাজার টাকার।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমি আছে ৩৭১.৫০ শতক, যার মূল্য ৩২ লাখ ৭১ হাজার ২৮২ হাজার টাকা। অকৃষি জমি ৩০৭.৫১ শতক যার মূল্য ৫২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪৫ টাকা। একটি দ্বিতল বাড়ির মূল্য দেখিয়েছেন ৪৫ লাখ টাকা। দুটি ফ্লাট রয়েছে ১৪ লাখ ২২ হাজার ৮৫০ টাকার।
যশোর-৩ (যশোর সদর) আসনে বিএনপি প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি (অনার্স), এমএসসি, এমবিএ। পেশায় ব্যবসায়ী। মামলা রয়েছে মোট ৫৩টি যার মধ্যে ৪৬টিতে খালাস পেয়েছেন আর ৭টি চলমান রয়েছে। তিনি ১১ কোটি ৪২ লাখ তিন হাজার ৯৯৮ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। তার নগদ অর্থ আছে তিন লাখ ৬৬ হাজার ৫১১ টাকা। এছাড়া ব্যাংক হিসাবে দুই কোটি ২৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৪৮ টাকা বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার আছে এক কোটি ৪৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯ টাকা রয়েছে। অংশীদারি ব্যবসায় রয়েছে ৬৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬১৩ টাকা। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত তিন কোটি ১২ লাখ ৪৪ হাজার ১৫২ টাকা। ডিপিএস আছে দুই কোটি ৯০ লাখ ৯৪ হাজার ৯১১ টাকা। বীমা ও ট্রাস্টি ২৭ লাখ ৭১ হাজার ২৭৪ টাকা।স্বর্ণ আছে ১২ হাজার ৫০০ টাকার। চার লাখ টাকার ইলেকট্রিক পণ্য ও দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। ৫৬ লাখ ৮০ হাজার ৮৩৮ টাকার কৃষি জমি রয়েছে। তিন শতক জমির উপর একতলা বাড়ি রয়েছে যার দাম সাত লাখ ৮৫ হাজার টাকা। অকৃষি জমি রয়েছে ৩৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।  ৩০ তোলা স্বর্ণের দাম দেখিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ৩০ হাজার টাকার ইলেকট্রিক পণ্য ও আসবাবপত্র রয়েছে ২০ হাজার টাকার।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমি আছে ৩৭১.৫০ শতক, যার মূল্য ৩২ লাখ ৭১ হাজার ২৮২ হাজার টাকা। অকৃষি জমি ৩০৭.৫১ শতক যার মূল্য ৫২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪৫ টাকা। একটি দ্বিতল বাড়ির মূল্য দেখিয়েছেন ৪৫ লাখ টাকা। দুটি ফ্লাট রয়েছে ১৪ লাখ ২২ হাজার ৮৫০ টাকার।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে বিএনপি প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজীর শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাশ। পেশায় মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী। তার নামে কোন মামলা নেই। তিনি ১০ লাখ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। তার নগদ অর্থ রয়েছে তিন লাখ ৫৩ হাজার ৬৯৫ টাকা। ব্যাংকে আছে এক লাখ ৪৭ হাজার টাকা। ব্যবসায় বিনিয়োগ আছে দুই লাখ ৩১ হাজার ৪০০ টাকা। ৫০ হাজার টাকার একটি মোটরসাইকেল রয়েছে। ৫০ হাজার টাকার ইলেকট্রিক পণ্য এবং ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমি আছে দুই লাখ ২৪ হাজার টাকা।
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী রশীদ আহমাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর। পেশায় শিক্ষক। তার নামে কোন মামলা নেই। তিনি ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৮২২ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। তার নগদ অর্থ রয়েছে সাত লাখ ১২ হাজার ৫১৬ টাকা। ব্যাংকে আছে ৬৬ হাজার ৩০৬ টাকা। উপহার হিসেবে পেয়েছেন ৫ ভরি স্বর্ণ। একলাখ টাকার ইলেকট্রিক পণ্য ও এক লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। ২০ হাজার টাকার একটি মোটরসাইকেল রয়েছে।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া কৃষিজমি আছে ১০২.৮০৫ শতক। অকৃষি জমি রয়েছে ৬৫.৭৯ শতক যার মূল্য এক লাখ ৩০ হাজার ৮৩৩ টাকা। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ১৬০০ স্কয়ার ফুটের ১তলা বিল্ডিং আছে।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিএ। পেশায় ব্যবসায়ী। তার নামে কোন মামলা নেই। তিনি আট কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৭ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। তার নগদ অর্থ রয়েছে ১৮ কোটি ৫৮ লাখ ২০৬ টাকা। ব্যাংকে আছে ৫৩ লাখ ৮১ হাজার ১৬২ টাকা। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত ৭৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪ টাকা আছে। দুইটা কার ও একটি মাইক্রোবাস রয়েছে যার মূল্য ৪২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। চার লাখ ২২ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক্স পণ্য এবং ৫ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। স্বর্ণ রয়েছে ১০ হাজার টাকার।
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদ রয়েছে পাঁচ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার ৩১৫ টাকা। তার স্থাবর সম্পদ হিসেবে কৃষি জমি না থাকলেও অকৃষি জমি রয়েছে তিন কোটি ২৮ লাখ ২৫ হাজার টাকার। এক লাখ ছয় হাজার টাকার একটি ভবন ও এক কোটি দুই লাখ ৬০ হাজার টাকার একটি ফ্লাট ও একটি বাণিজ্যিক ফ্লোর আছে।
 

শেয়ার করুনঃ