উচ্ছৃঙ্খল ও বখে যাওয়া কিশোর-তরুণদের নিরাপদ আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে যশোর পৌর হকার্স মার্কেটের ১৫১ টি দোকানের সাতটি গলি। ওই সংখ্যক দোকানের মধ্যে ৪২টি ব্যাতিত বাকিগুলো বন্ধ থাকায় গলিপথগুলো দিনের বেলায় নির্জন ও সন্ধ্যার পর ঘুটঘুটে আঁধারে ডুবে থাকে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চলে একেবারে উঠতি বয়সি কিশোর-তরুণদের ধূমপান ও মাদকসেবন। দিনের বেলাতেও স্কুল-কলেজের পোশাক পরিহিত অবস্থায়ও চলে এসব কর্মকাণ্ড। আর শুধু তাই-ই নয়- সামান্য কথাকাটাকাটি নিয়েও ঘটে গ্রুপভিত্তিক মারামারি। পরিস্থিতি এমন মারাত্মক রূপ নেয় যে- চলে চাকুর মহড়াও।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোর-তরুণদের ‘উচ্ছৃঙ্খল আড্ডা’ ঘিরে প্রায় প্রতিদিনই মার্কেটটির পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের মতো এখানে আসা ক্রেতারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। গত কয়েক মাস ধরে এরকম বিশৃঙ্খলা চললেও প্রশাসনিক কোনো তৎপরতা না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, অধিকাংশ দোকান বন্ধ থাকায় মার্কেটের ভেতরের সাতটি গলি সন্ধ্যার পর আঁধারে ডুবে যায়। আর দিনের বেলায় একদম ফাঁকা পড়ে থাকে। আর সেই সুযোগটিকে কাজে লাগাচ্ছে বহিরাগত উঠতি বয়সিরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দিনের বেলা ও সন্ধ্যার পর মার্কেটের ভেতরের গলিগুলোতে চলে মাদকসেবন, ধূমপান ও ‘উচ্ছৃঙ্খল আড্ডা’। আর প্রকাশ্যে দিনের পর দিন এমটি চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ব্যাপারে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে সেখানে মারামারি ঘটছে। মারামারির সময় অবাধে চলছে চাকু’র ব্যবহার। ফলে আতঙ্কে দোকান খুলতেও ভয় পাচ্ছেন অনেক ব্যবসায়ী।
জানা গেছে, গত বছর ২৯ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মার্কেটটির প্রথম গলিতে আবু হুরায়রা (১৯) নামের এক কিশোর দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে জখম হয়। এরও আগে বহিরাগতদের প্রকাশ্যে ধূমপান করতে নিষেধ করায় সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের মধ্যে ঘটে ধাওয়া-পালটা ধাওয়াসহ ইটপাটকেল নিক্ষেপ।
মার্কেটটির আশপাশে রয়েছে- সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, শামস উল হুদা স্টেডিয়াম, ক্রীড়া সংস্থা ও জিমনেসিয়াম। শিক্ষা ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট- এমন সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের পাশে প্রকাশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চলায় অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মার্কেটটির এক মুদি দোকানি মামুন হোসেন বলেন, অনেক সময় দেখা যায়- স্কুল ড্রেস পরা ছেলেরা এখানে বসে ধূমপান করছে। একটু কথাকাটাকাটিতেই মারামারি বেধে যায় ও চাকু বের হয়। আইনশৃঙ্খলার এই অবনতি আমাদের ব্যবসা ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমরা নিরাপদ পরিবেশ চাই।
আরেক ব্যবসায়ী কাজী রেজাউল ইসলাম জানান, মার্কেটের ভেতরের কিছু গলি এখনো অন্ধকার। সেখানেই মাদক সেবনসহ ‘উচ্ছৃঙ্খল আড্ডা’ জমে। সব সময় আতঙ্কে থাকতে। পরিবার নিয়ে এখান দিয়ে চলা দায় হয়ে পড়েছে।
সার্কিট হাউসপাড়া শান্তিরক্ষা কমিটির সভাপতি সোহেল রহমান বলেন, কয়েক মাস আগেও এই মার্কেট শান্ত ছিল। এখন বহিরাগতরা এসে চাকু নিয়ে মহড়া দেয়, মাদক সেবন করে। এতে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নারী পথচারীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।
পৌর হকার্স মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী অভিযোগ করে বলেন, মার্কেটটি কিশোর গ্যাংয়ের ‘অভয়ারণ্যে’ পরিণত হয়েছে। বাইরে থেকে লোক এনে গলির মধ্যে মারধর ও রক্তাক্ত করার ঘটনাও ঘটছে। আমরা প্রশাসনকে একাধিকবার মৌখিকভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


























