মুখোমুখি বসে চোখে চোখ রেখে চলছে কব্জির শক্তির লড়াই। প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারাতে কেউ দিচ্ছেন বাহুবলের সর্বোচ্চ প্রয়োগ, কেউ আবার কৌশলে বাজিমাত করছেন। শ্রাবণের শেষ বিকেলের গুমোট গরমও যেন দমাতে পারেনি প্রতিযোগীদের উদ্যম। এমনই উৎসবমুখর পরিবেশে যশোর শহরের লালদিঘি পাড়ে ব্রাদার টিটোস হোম স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিটিএইচ পাঞ্জা লড়াই ২০২৬’।
শনিবার ব্রাদার টিটোস হোমের বার্ষিক আয়োজন হিসেবে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় নার্সারি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক—বাবা ও মায়েরা অংশ নেন। মোট ছয়টি ক্যাটাগরিতে প্রায় দুইশ প্রতিদ্বন্দ্বী পাঞ্জা লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের চারটি শ্রেণি—নার্সারি, কেজি, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং অভিভাবকদের মধ্যে বাবা ও মা—এই ছয়টি ক্যাটাগরি ছিল।
নার্সারি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাইমুন। প্রথম রানার-আপ আহিল এবং দ্বিতীয় রানার-আপ রাফা। কেজিতে চ্যাম্পিয়ন জিসান, প্রথম রানার-আপ জারিফ ও দ্বিতীয় রানার-আপ অরিত্রি।
প্রথম শ্রেণিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাইয়ান। প্রথম রানার-আপ রিসলিয়া এবং দ্বিতীয় রানার-আপ আমির। দ্বিতীয় শ্রেণিতে চ্যাম্পিয়ন তাওহিদুর, প্রথম রানার-আপ আসফিয়া এবং দ্বিতীয় রানার-আপ খালিদ।
অভিভাবক মায়েদের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন সুমাইয়া। প্রথম রানার-আপ খুশনুদা এবং দ্বিতীয় রানার-আপ বর্ষা। আর অভিভাবক বাবাদের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মেরিনুজ্জামান এবং প্রথম রানার-আপ খাইরুল।
পাঞ্জা লড়াই পরিচালনা করেন ব্রাদার টিটোস হোম স্কুলের অধ্যক্ষ আলী আজম টিটো।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন বিটিএইচের শিক্ষকবৃন্দ। ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ছিল একটি জীবন্ত মোরগ, দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে এক ঝুড়ি ডিম এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে দুটি আনারস। পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় আনন্দঘন মিলনমেলায়।


























